logo
menu
সাভারে অস্ত্রোপচারে শিশুমৃত্যু: ১০ লাখ টাকায় সমঝোতার খবর, টাকা নেওয়া অস্বীকার মায়ের!

সাভারে অস্ত্রোপচারে শিশুমৃত্যু: ১০ লাখ টাকায় সমঝোতার খবর, টাকা নেওয়া অস্বীকার মায়ের!

​ঢাকার সাভারে নাকের পলিপাস ও টনসিলের সমস্যার অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে আব্রাহাম নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর স্বজনদের বিক্ষোভ ও হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিশুটির পরিবারের সমঝোতা হয়েছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে সমঝোতার অর্থ গ্রহণ নিয়ে পরিবারের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।

​২১ অক্টোবর বুধবার দুপুরে সাভার পৌর এলাকার উলাইল-সংলগ্ন আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির বয়স ১১ বছর। তবে দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদনে বয়স ৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।

​অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি:
​পরিবারের অভিযোগ, নাকের পলিপাস ও টনসিলের সমস্যার চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন না করেই চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার মা।

​পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না, তা স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

​ক্ষুব্ধ স্বজনদের ভাঙচুর, পুলিশের হস্তক্ষেপ:
​শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভাঙচুর চালান বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

​সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় তাদের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশও ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

​সমঝোতার খবর, অর্থ গ্রহণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য:
​দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বাংলা ট্রিবিউন ও দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন রাতে সাভারের মুক্তির মোড় এলাকার লন্ডনাস রেস্টুরেন্টে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা হয়। কয়েকটি প্রতিবেদনে সমঝোতার অর্থ হিসেবে ১০ লাখ টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

​তবে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে শিশুটির মা কনা আক্তার টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, সমঝোতার বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি অর্থ লেনদেনের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

​দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মোট ২০ লাখ টাকায় সমঝোতার মধ্যে ১০ লাখ টাকা মধ্যস্থতাকারীরা ভাগ করে নিয়েছেন। তবে এই অতিরিক্ত অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।

​এ ছাড়া সমঝোতার সময় সাভার মডেল থানায় দুই লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলেও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি অর্থ লেনদেন সম্পর্কে কিছু জানেন না।

​বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ গ্রহণ:
​প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। তবে পারিবারিক সমঝোতা হয়ে থাকলেও তা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের সত্যতা কিংবা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিজে থেকে প্রমাণ করে না।

​শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং সমঝোতার অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

​সূত্র:
​১. দ্য ডেইলি স্টার — ২১ অক্টোবর ২০২৬
​২. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড — ২২ অক্টোবর ২০২৬
​৩. বাংলা ট্রিবিউন — ২২ অক্টোবর ২০২৬
​৪. দৈনিক ইনকিলাব — ২২ অক্টোবর ২০২৬
​৫. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম — ২১ অক্টোবর ২০২৬

​প্রতিবেদক: পি.এইচ.এম. সাখাওয়াত
​সাভার, ঢাকা।​

তামিল সিনেমায় নতুন ইতিহাস গড়লেন রজনীকান্ত এর ‘জেলার ২’

তামিল সিনেমায় নতুন ইতিহাস গড়লেন রজনীকান্ত এর ‘জেলার ২’

দেনমোহর মাত্র ৯৯৯ টাকা, বিয়ে করলেন অভিনেতা শিমুল

দেনমোহর মাত্র ৯৯৯ টাকা, বিয়ে করলেন অভিনেতা শিমুল

অতিথি পাখি রক্ষায় জাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ, জলাশয়ে একাধিক বিধিনিষেধ?

অতিথি পাখি রক্ষায় জাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ, জলাশয়ে একাধিক বিধিনিষেধ?

মাস শেষের আগেই ফুরিয়ে যাচ্ছে বেতন, ধারদেনায় বাড়ছে চাকরিজীবীদের চাপ!

মাস শেষের আগেই ফুরিয়ে যাচ্ছে বেতন, ধারদেনায় বাড়ছে চাকরিজীবীদের চাপ!

পাঠ্যবইয়ের ছবি নিয়ে বিতর্ক, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বদলের উদ্যোগ।

পাঠ্যবইয়ের ছবি নিয়ে বিতর্ক, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বদলের উদ্যোগ।

সাভারের সিআরপি ঘিরে বাসাভাড়া ও থেরাপি সেবায় উদ্বেগ! নজরদারি বাড়ানোর দাবি!

সাভারের সিআরপি ঘিরে বাসাভাড়া ও থেরাপি সেবায় উদ্বেগ! নজরদারি বাড়ানোর দাবি!

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার পাঠ্যবই!

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার পাঠ্যবই!

​২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও আনন্দময় ও বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বইগুলোতে খেলাধুলা, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

​প্রস্তাবিত বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে বই চারটির প্রায় দেড় কোটি কপি ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সভার অনুমোদন ও মুদ্রণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

​এনসিটিবি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত বই দুটি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।

​খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্ব:
​চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসের মতো খেলার পাশাপাশি কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষার কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি, হিট স্ট্রোক মোকাবিলা এবং সামাজিক দক্ষতা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

​এ ছাড়া ১১টি অধ্যায়ে সাজানো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে দেশের ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা:
​ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পরিবেশ ও সামাজিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেখার বিষয়গুলো এতে গুরুত্ব পাবে।

​অন্যদিকে আটটি অধ্যায়ের ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ছোট উদ্যোগ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখা ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

​অনুমোদনের পর শুরু হবে মুদ্রণ:
​প্রকাশিত সংবাদে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার বক্তব্যের বরাতে জানানো হয়েছে, নতুন চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর বইগুলো মুদ্রণের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

​এনসিটিবি-সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই ছাপানোর কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুদ্রণ ও সরবরাহ সম্পন্ন হবে কি না, তা পরবর্তী অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

​নতুন বইগুলো চালুর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থনির্ভর পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে সৃজনশীলতা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং বাস্তবজীবনভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করা।


​সূত্র: ১. আজকের পত্রিকা — ২৪ অক্টোবর ২০২৬
​২. নিউজ বাংলাদেশ — ২৪ অক্টোবর ২০২৬
​৩. এনটিভি অনলাইন — ২৪ অক্টোবর ২০২৬ (এনসিটিবি-সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন)

​✍️প্রতিবেদক: পি.এইচ.এম. সাখাওয়াত (সাভার, ঢাকা)।​


১৮ বছরের আগেই বিয়ে ৪৭.২ শতাংশ নারীর! উদ্বেগ জানাল ইউনিসেফ।

১৮ বছরের আগেই বিয়ে ৪৭.২ শতাংশ নারীর! উদ্বেগ জানাল ...

​বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এখনো বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। একই বয়সী নারীদের ১৩ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে এ চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বাংলাদেশের শিশুদের কল্যাণে জরুরি বিনিয়োগ এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সফরের তিন দিনে তিনি ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন।

​ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের কারণে অনেক মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অল্প বয়সে গর্ভধারণের আশঙ্কা বাড়ে এবং শারীরিক ও ব্যক্তিগত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।

​সংস্থাটি বলছে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইউনিসেফ।

​শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের আহ্বান:
​বাংলাদেশ সফরকালে ক্যাথরিন রাসেল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

​ক্যাথরিন রাসেলের মতে, বাজেটের মাধ্যমে শিশুদের জন্য অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

​রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষায় গুরুত্ব:
​রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির মতে, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা ইতোমধ্যে নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। তাদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে না দেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্যও বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

​ইউনিসেফের আহ্বান অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ বন্ধ, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

​সূত্র: ১. ইউনিসেফ বাংলাদেশ — ২০ অক্টোবর ২০২৬।

২. বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS) ২০২৫, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফ — চূড়ান্ত প্রতিবেদন, জুন ২০২৬।


​✍️প্রতিবেদক: পি.এইচ.এম. সাখাওয়াত (সাভার, ঢাকা)।

























​


সাভারে হেযবুত তওহীদের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত, প্রধান অতিথি এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।

সাভারে হেযবুত তওহীদের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত, প্রধান অত...

​ঢাকার সাভারে ‘আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মীসভা করেছে হেযবুত তওহীদ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মীসভায় সংগঠনটির শীর্ষ নেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

​সাভার উপজেলা শাখার আমির সোহেল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামের শিক্ষা, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়।

​অনুষ্ঠানে এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম ইসলামের আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

​দৈনিক দেশেরপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সভায় হেযবুত তওহীদের ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ, ঢাকা জেলা সভাপতি সুমন শেখ, আশুলিয়া থানা সভাপতি আব্দুল খালেকসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাভার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

​সূত্র: ১. দৈনিক দেশেরপত্র — ২৩ অক্টোবর ২০২৬

​✍️প্রতিবেদক: পি.এইচ.এম. সাখাওয়াত (সাভার, ঢাকা)।
​

জনপ্রিয় খবর

No Data Found

Motamot

মতামত

user image

নয় বছরের মেয়ের বাবাকে বাঁচানোর আকুতি, নাড়া দিল ...

মেয়ের কাছে বাবা কখনো চোর হয় না। মেয়ের কাছে বাবারা সব সময় হিরো, রক্ষাকর্তা, সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। বরিশালের উজিরপুরের একটি বাজারে যে দৃশ্য আমরা দেখলাম, ত...
user image

ইউরোপ কি পারবে ট্রাম্পের থাবা থেকে গ্রিনল্যান্ডকে ...

ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনা। বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কোনো ...
user image

‘বাস কন্ডাক্টর’-এর ভূমিকায় বিড়াল

সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় কেউ সঙ্গী হলে বিষয়টা দারুণ হয়। এতে পথ চলার ক্লান্তি অনেকটা কমে যায়। এদিক দিয়ে চীনের হেবেই প্রদেশের বাসি...
সাজিদের আর্তচিৎকার শুনেও নামতে পারেনি কেউ, সাঁতার না জানার আক্ষেপ

সাজিদের আর্তচিৎকার শুনেও নামতে পারেনি কেউ, সাঁতার না জানার আক্ষেপ

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে ডুবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার সীতারঘাট এলাকায় পা পিছলে তিনি নিখোঁজ হন। পরে বিকেল ৪ টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা কর্ণফুলী নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. সাজিদ শাহরিয়ার (২৪)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি নরসিংদী জেলায়। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কাপ্তাই বেড়াতে এসেছিলেন।

নিহত সাজিদ শাহরিয়ারের সহপাঠী নাজমুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল ১০টার দিকে সাজিদ ও তাঁর আট বন্ধু কাপ্তাই যান। এরপর তাঁরা কাপ্তাই সীতা পাহাড় ট্র্যাকিংয়ে যান। পাহাড় থেকে ফিরে তাঁরা কর্ণফুলী নদীতে হাত মুখ ধুতে যান। এ সময় সাজিদ পা পিছলে নদীতে পড়ে স্রোতের টানে ভেসে যান। এ দুর্ঘটনার পর সাজিদের বন্ধুদের আহাজারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সাজিদের এক বন্ধুকে দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে শোনা যায়। আলোকিত কাপ্তাই নামের একটি ফেসবুক পেজে এ ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে সাজিদের এক বন্ধুকে বলতে শোনা যায়, ‘হঠাৎ পা পিছলে সাজিদ পানিতে পড়ে যায়। এরপর সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু আমরা কেউ সাঁতার জানি না। এ কারণে আমরা নদীতে নেমে তাঁকে বাঁচাতে পারিনি।’

​কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বেলা দুইটার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৪০ ফুট দূরে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঢাকায় পৃথক স্থানে তিনটি বাসে আগুন, রাজধানীতে আতঙ্ক

ঢাকায় পৃথক স্থানে তিনটি বাসে আগুন, রাজধানীতে আতঙ্ক

রাজধানীর মিরপুরে শিকড় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের জমজম টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুন নেভানো হয়েছে। চলন্ত অবস্থায় বাসটিতে আগুন লাগে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিক ধারণা তাঁদের।

এ ছাড়া মিরপুর-১ আনসার ক্যাম্প এলাকায় একই সময়ে অভিজাত পরিবহনের আরেকটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। তবে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নেভানো হয় বলে জানিয়েছে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে তিনি জানান। এ ছাড়া, রাত আটটার দিকে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গাড়ির একটি গ্যারেজের সামনে আরেকটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ বলছে, বাসটি আলিফ পরিবহনের। রাস্তার পাশে বাসটি পার্কিং করা ছিল। কে বা কারা পেছনের দিকে আগুন দিয়ে পালিয়ে গেছে। উপস্থিত লোকজন সঙ্গে সঙ্গে আগুন নেভায়।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হন। আর রাত ১১টার দিকে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনে ২টি এবং রাত ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকার ঢাকা কলেজের সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা হলেও কে বা কারা জড়িত, তা এখনো পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। গতকালের এসব ককটেল বিস্ফোরণের পর নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, উড়ালসড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল ও নজরদারি।

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিখোঁজের পর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার, শোকস্তব্ধ পরিবার

নিখোঁজের পর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার, শোকস্তব্ধ পরিবার

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর থেকে নিজেকে সামলাতে পারছেন না কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। কথা বলতে গেলেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, মূর্ছা যাচ্ছেন। একই রকম অবস্থা অপ্রতিমের ব্যবসায়ী বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহিদা বলেন, ‘আমার একটাই মাত্র ছেলে। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব। তোরা আইফোন নিয়ে যেতি, কিন্তু আমার ছেলেকে খুন করলি কেন? আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। অপ্রতিম আমার বুকের মানিক, তোকে ছাড়া কীভাবে বাঁচব, বাবা।’

নিখোঁজের এক দিন পর আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি কোটবাড়ির গন্ধমতী (দক্ষিণ বাগমারা) এলাকার নুরজাহান ভিলার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন নাহিদা বেগম ও ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতি। সেখানেই আজ বিকেলে অপ্রতিমের বিষয়ে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। শোকের সঙ্গে নাহিদা বেগমের অসহায় প্রশ্ন, কেন তাঁর সন্তানকে এভাবে চলে যেতে হলো। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট্ট ছেলেটাকে অনেক কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর সময় ছেলেটা কীভাবে ছটফট করেছিল, কে জানে। আমার তো সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব। যারা আমার ছেলেকে খুন করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’ কথা বলতে বলতে আবারও অপ্রতিমের কথা মনে পড়ে যায় নাহিদার। তিনি বলেন, ‘ছেলেটাকে নিয়ে বুকভরা স্বপ্ন ছিল। কোনোভাবেই মানতে পারছি না, আমার সেই ছেলে এখন লাশ।’

ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম। ছবি: সংগৃহীত

একসময় আক্ষেপ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, ‘আমার ছেলের কী অপরাধ ছিল যে তাকে হত্যা করা হলো? আমি কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটা কি আমার অপরাধ? বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশেই কেন একজন শিক্ষক আর তাঁর সন্তানকে এমন ঘটনার শিকার হতে হবে?’ অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মুঠোফোনের যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের ব্যবসা করেন। ছেলেকে হারিয়ে তিনি অনেকটাই বাক্‌রুদ্ধ। কথা বলতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন। ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘অপ্রতিম ছিল আমাদের পৃথিবী। তাকে নিয়েই আমাদের সাজানো সংসার। কিন্তু সামান্য একটি আইফোনের জন্য আমার ছেলেটা আজ পৃথিবীতে নেই। কেন আমার ছেলেটাকে এভাবে হত্যা করা হলো, আমি তার বিচার চাই।’


ছেলের নিখোঁজ হওয়ার আগের সময়টুকু মনে করে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, শুক্রবার দুপুরে তিনি ছেলেকে খাবার খাইয়েছিলেন। এরপর ছেলেকে বাইরে না যেতে বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ওকে দুপুরে খাবার খাইয়েছি। পরে বললাম, “বাবা, তুমি আজ বাইরে যেয়ো না। আমরা একসঙ্গে একটু ঘুরব, মুভি দেখব বাসায়। বিকেলে তোমাকে একটা ভালো গিফট দেব।” কিন্তু সে বলল, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাবে। এরপর চলে গেল। এরপর আর ছেলে ফিরে আসেনি।’ ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘পরে আমরা থানায় জিডি করেছি, নানা জায়গায় যোগাযোগ করেছি। পুলিশসহ সবাইকে জানিয়েছি। অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু আর পাওয়া যায়নি। অবশেষে এভাবে আমার ছেলেকে পাওয়া গেল।’

কথাগুলো বলতে বলতে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে ফিরোজ শাহরিয়ারের। তিনি বলেন, ‘এইভাবে আসলে আমার আর কথা বলার মতো মন নেই। আমি শুধু আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। ও আমাদের একমাত্র সন্তান। মনে হচ্ছে, বাঁচার অবলম্বনটুকু হারিয়ে ফেলেছি।’ নাহিদা ও ফিরোজের ফ্ল্যাটের দেয়াল ও আসবাবে অপ্রতিমের উপস্থিতির নানা চিহ্ন। ছোটবেলার ছবি, স্কুলজীবনের ছবি-বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাওয়া ছেলেটির মুখের নানা স্মৃতি সেখানে ধরে রাখা। দরজার পাশের কাঠের ফলকে লেখা ‘অপ্রতিমদের বাসা, প্রযত্নে নাহিদ ও শাহরিয়ার’। সেটিও যেন বলে দেয়, এই পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল অপ্রতিম। নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন ২০১৫ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি কোটবাড়ির গন্ধমতী (দক্ষিণ বাগমারা) এলাকায় তাঁরা বসবাস করছিলেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম পড়ত কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে।

অপ্রতিমের বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী জাহান বলেন, অপ্রতিম ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাঁদের বিদ্যালয়ে পড়ত। এখন সপ্তম শ্রেণিতে ছিল। পড়াশোনায় ভালো ছিল। একটু চুপচাপ, মিশুক ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। বিদ্যালয়ে অপ্রতিমকে কখনো কোনো ঝামেলায় জড়াতে দেখা যায়নি। সহপাঠীদের কাছ থেকেও তার সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু শোনা যায়নি। অপ্রতিমের এমন মৃত্যু তার সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানী কাঁপল ককটেল বিস্ফোরণে, আক্রান্ত ৮ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা

রাজধানী কাঁপল ককটেল বিস্ফোরণে, আক্রান্ত ৮ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা

রাজধানীর আট গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, বাবুবাজার, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান ও মগবাজার মোড়ে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় যাত্রাবাড়ীতে এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় জড়িতদের এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনেও একাধিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মালিবাগে ফরচুন শপিং মলের সামনে প্রথমে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহাখালী ও আগারগাঁওয়ে পৃথক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মহাখালী এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। প্রায় একই সময়ে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন সড়কে আরও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। এতে এক রিকশাচালক আহত হন। যাত্রাবাড়ী থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. হাসানুর গণমাধ্যমকে জানান, থানার প্রধান ফটকের সামনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রাথমিকভাবে ককটেল বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। পরে রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে মগবাজার চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশে আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া বাবুবাজার, বঙ্গবাজার ও গুলিস্তান এলাকাতেও ককটেল বিস্ফোরণ হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ ও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথমে জগন্নাথ হলের গেট এলাকায় পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর টিএসসি এলাকায় আরও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এদিন দুপুরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায়ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। ওই দিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির গেটের সামনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজের পা কেটে, ড্রোনে ঝুলে প্রাণে বাঁচলেন ইউক্রেনীয় সেনা

নিজের পা কেটে, ড্রোনে ঝুলে প্রাণে বাঁচলেন ইউক্রেনীয় সেনা

বোমায় বিধ্বস্ত একটি স্কুলের বয়লারের নিচে একটি গর্তে গুটিসুটি মেরে বসে ছিলেন কোস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেনকো। তখনই তাঁকে একটি ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি বুঝতে পারেন, বেঁচে থাকতে হলে তাঁর অবশিষ্ট পা-টিও কেটে ফেলতে হবে। এই ইউক্রেনীয় পদাতিক সেনা গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ ড্রোন হামলায় তাঁর বাঁ পা হারিয়েছিলেন। একই হামলায় তাঁর ডান পা ভেঙে বেঁকে গিয়েছিল। এর ফলে তিনি হামাগুড়িও দিতে পারছিলেন না।

প্রায় তিন মাস পর তিনি এই পা-টি কেটে ফেলতে বাধ্য হন। নিজের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে পা-টি কেটে ফেলেন। রক্তপাত বন্ধ করতে সেখানে একটি ব্যান্ডেজ বেঁধে দেন।
এর মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে যান। গত ৪ অক্টোবর ৪৯ বছর বয়সী এই সেনাকে নাটকীয়ভাবে উদ্ধার করা হয়। তিনি প্রায় আট মাস ওই বয়লারকক্ষে আটকে ছিলেন। আর ইউক্রেনের ড্রোন-অধ্যুষিত যুদ্ধক্ষেত্রে পার করেছিলেন টানা ৪৯১ দিন। একটি বিশাল ছয় পাখার ড্রোনকে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। হার্নেস (নিরাপত্তা বেল্ট) পরা ঝুলন্ত ভ্লাসেনকোকে ড্রোনটি শূন্যে তুলে নেয়। এরপর তাঁকে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দূরে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়।

ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের মতে, আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে কোনো সেনাকে উদ্ধারের এটিই প্রথম জানা ঘটনা। পাঁচ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ড্রোনের এমন নজিরবিহীন মাত্রায় ব্যবহার দেখা গেছে। এটি আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে একেবারে সামনের সারিতে (ফ্রন্টলাইন) সবচেয়ে বেশি সময় কাটানো ইউক্রেনীয় সেনাদের মধ্যে এই পদাতিক সেনা একজন।

এলাকাটি মৃত্যুপুরী (কিল জোন) নামে পরিচিত। কারণ, সেখানকার আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ঘুরে বেড়ায়। সেখানে একটু নড়াচড়া করলেই মৃত্যু হতে পারে। কোনো জায়গাই সেখানে নিরাপদ নয়।
উভয় পক্ষের সেনারাই মাটির অনেক গভীরে পরিখা খুঁড়তে বাধ্য হন। অনেক সময় তাঁরা সেখানে মাসের পর মাস আটকা পড়ে থাকেন।

হতাহতের সংখ্যা এখনো অনেক বেশি। যদিও ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি অনেকাংশেই থমকে গেছে।

ড্রোন দিয়ে এই উদ্ধারকাজ ভ্লাসেনকোর জীবনে একটি অবিশ্বাস্য মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। নিজের পা কাটার পরের যন্ত্রণাদায়ক মাসগুলোতে তিনি বাঁচার আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন।

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এই সেনাসদস্য রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি নিজেকে কবর দিয়েই ফেলেছিলাম।’ ব্যান্ডেজ মোড়ানো দুই পায়ের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম, বেঁচে ফেরার আর কোনো আশা নেই।’

ভ্লাসেনকোর এই কষ্টের দিনগুলো এবং উদ্ধারের গল্পটি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে। তাঁকে উদ্ধারকারী ড্রোনে বসানো ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজও এর প্রমাণ দেয়। যদিও রয়টার্স স্বাধীনভাবে তাঁর গল্পের প্রতিটি তথ্য যাচাই করতে পারেনি। ভ্লাসেনকো খারকিভ অঞ্চলে ৩০তম মেকানাইজড ব্রিগেডের হয়ে মোতায়েন ছিলেন। গত বছরের মে মাসে তাঁকে সামনের সারিতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি বাস্কি নামের এক সহযোদ্ধার সঙ্গে যোগ দেন।
ওই দুজন একটি ছোট মাটির গর্তে গাদাগাদি করে থাকতেন। ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিদিন ওপর থেকে তাঁদের খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্র দেওয়া হতো। ভ্লাসেনকোর জন্মদিনে ড্রোন থেকে চকলেট ও দামি সিগারেটও ফেলা হয়েছিল।

ভ্লাসেনকো জানান, গত বছরের শরৎকালে যখন সেনাদের বদলি করার সময় আসে, তখন দুজন নতুন সেনা তিনি যেখানে ছিলেন সেখানে আসার পথেই নিহত হন। তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য পাঠানো আরও দুই সেনাকেও হত্যা করা হয়।

বিবাহিত এই সেনা বলেন, ‘আমার মনে আছে, তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি নিশ্চিতভাবেই একটি বাঁকবদলের মুহূর্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘বুঝতে পেরেছিলাম যে এখান থেকে আর কেউ বের হতে পারবে না।’
একসঙ্গে ১০ মাস থাকার পর ভ্লাসেনকো ও বাস্কি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তাঁদের জায়গা ছাড়তে বাধ্য হন। কারণ, তাঁদের গর্তে পানি ঢুকে গিয়েছিল। এরপর তাঁরা বাধ্য হয়ে একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্কুল ভবনে আশ্রয় নেন।

তবে এই স্বস্তি বেশি দিন টেকেনি। সহযোদ্ধাদের ফেলা শুকনা কাপড় এবং খাবারের প্যাকেট আনতে তাঁরা বাইরে বের হন। তখনই একটি রুশ নজরদারি ড্রোন তাঁদের দেখে ফেলে।

এরপর আরেকটি রুশ ড্রোন তাঁদের ওপর বোমা ফেলে। এতে বাস্কি তাঁর ৫০তম জন্মদিনেই নিহত হন। বিস্ফোরণে ভ্লাসেনকোর বাঁ পা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। মাটিতে পড়ে গিয়ে তিনি তাঁর অন্য পায়েও মারাত্মক আঘাত পান। তিনি নড়াচড়াই করতে পারছিলেন না। কোনোমতে একটি গর্তে আশ্রয় নেন। গর্তটি ছিল প্রায় ৮০ বাই ৬০ সেন্টিমিটার চওড়া। গর্তটি ছিল একসময় স্কুলকে গরম রাখার একটি পুরোনো ধাতব বয়লারের নিচে।

ভ্লাসেনকো বলেন, তাঁর বাঁ পা ধীরে ধীরে ‘পচে গিয়েছিল’। এই স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বেশ কষ্ট পাচ্ছিলেন।

তাঁর ডান পায়ের নিচের অংশ এতটাই মারাত্মকভাবে জখম হয়েছিল যে হাড় বেরিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ওই পা-টিও কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।

তথ্যসূত্রঃ রয়টার্স


তিনি বলেন, ‘আমাকে পা-টা কাটতেই হতো। কারণ, এটা আমার পেছন পেছন ঝুলছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘পা-টা এতটাই ঝুলছিল যে হাড় আরও বেশি করে বাইরে বেরিয়ে আসছিল।’
‘ফলে আমার আর কোনো পা অবশিষ্ট রইল না।’

শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

পার্থে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

পার্থে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সড়ক দুর্ঘটনায় তাসনিম ঐশী (২২) নামের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁরা চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত তাসনিম পার্থের এডিথ কাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাত্র দুই মাস আগে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। বাংলাদেশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন পার্থ (বিআইএসএপি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও বিআইএসএপি সূত্রে জানা গেছে, পার্থের উত্তরে ব্রেটন বে এলাকার ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের বহনকারী ধূসর রঙের একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। সিবার্ড সড়কের মোড়ের কাছে এলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে যায়। এরপর সেটি সজোরে একটি গাছে ধাক্কা খায়। এতে গাড়ির সামনে চালকের পাশের আসনে থাকা তাসনিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আহত তিনজনের মধ্যে দুজন ছেলে, অন্যজন মেয়েশিক্ষার্থী। ছেলে দুজনের মধ্যে একজন গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রয়্যাল পার্থ হাসপাতালে পাঠায়।

চিকিৎসকদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়। তাসনিমের মরদেহ একই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

উদ্ধারকাজের জন্য ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভের ওই অংশে দুই দিকেই কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ওই সময় সড়কটিতে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

বিআইএসএপি এক বিবৃতিতে তাসনিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধু ও সহপাঠীদের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে বিবৃতিতে।

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

আহত পাইলট স্মিথের বীরত্বে বাঁচল ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ

আহত পাইলট স্মিথের বীরত্বে বাঁচল ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ

ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার। নিজের পেশাগত বিবরণীতে তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর কথা লিখেছেন। আরও লিখেছেন, উড়োজাহাজ চালাতে গিয়ে তিনি সব সময় ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দিয়ে এসেছেন।

গতকাল বুধবার পেশাগত জীবনের সেই ‘নিরাপত্তাবোধের’ সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিতে হয়েছে স্মিথকে। মাঝ আকাশে থাকা একটি উড়োজাহাজের ককপিটে ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। তাঁরই একজন সহকারী পাইলট ককপিটে স্মিথকে ছুরিকাঘাত করেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীবোঝাই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করানো।

উড়োজাহাজটি ফ্লাইদুবাইয়ের। সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবে যাচ্ছিল। যাত্রী ছিলেন ১৭৪ জন। উড়োজাহাজটি ওমানের আকাশসীমায় ছিল। হামলার পর তড়িঘড়ি করে উড়োজাহাজটির মুখ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক শহরের বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

ককপিটে রক্তাক্ত হওয়ার পরও উড়োজাহাজটি এবং ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করায় রীতিমতো ‘নায়ক’ বনেছেন স্মিথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই পাইলটের ভূয়সী প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তাঁকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুজনই।

নেতানিয়াহু তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি (স্মিথ) লড়াই করেছেন। হামলাকারীকে প্রতিহত করেছেন। ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছেন। এতে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করতে পেরেছেন। ফলে মাঝ আকাশে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। ’

এ ঘটনার পর ক্যাপ্টেন স্মিথ সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে, স্মিথের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।

পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা তাঁর (স্মিথের) পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করা হবে। তাঁর সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’

এক্স পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘ভয়াবহ বিপদের মুখে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি (স্মিথ) অসীম সাহস ও অন্যদের জীবন রক্ষায় দৃঢ় সংকল্প দেখিয়েছেন। তাঁর সাহস শত শত মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। বড় একটি বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করেছে।’

ভারতের মুম্বাইয়ের ঘাটকপার ইস্ট এলাকায় থাকেন স্মিথের পরিবার। টেলিফোনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরাগ শাহ জানান, ঘটনা শুনে ক্যাপ্টেন স্মিথের মা–বাবা আজ ভোরেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

পারিবারিক দ্বন্দ্বে খুন নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহী, শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

পারিবারিক দ্বন্দ্বে খুন নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহী, শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জোনাথন ম্যাককিনসি নামে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই ব্যক্তির শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

৪০ বছর বয়সী জোনাথন ম্যাককিনসি নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের প্রকৌশল শাখার পরিচালক ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত শনিবার বিকেলে সান ফ্রান্সিসকো থেকে ৫৬ কিলোমিটার পূর্বে ডাবলিনের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জোনাথনের মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় জোনাথনের শ্বশুর-শাশুড়ি শৌইয়ং ঝাং ও শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দুজনেরই বয়স ৭৭ বছর। তাঁদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চরম অবহেলার সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া এবং শিশুকে বিপদের মধ্যে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দম্পতির কোনো আইনজীবী আছেন কি না, তা জানা যায়নি। আগামীকাল বুধবার তাঁদের আদালতে হাজির করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের মুখোমুখি করা হবে। জোনাথনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেজিও-টিভিকে প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেছেন, তাঁরা পরপর বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। এরপর জোনাথনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। আসাদ রাজাওয়ি নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী কেজিও-টিভিকে বলেন, ‘আমি দেখলাম, লোকটি মাটিতে পড়ে গেল। তার মাথা ও বুক রক্তাক্ত ছিল।’

আসাদের মেয়ে বলেন, তাঁর বাবা ওই দম্পতিকে ‘একসঙ্গে হাঁটতে এবং গুলি চালানোর পর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলে যেতে’ দেখেছেন। ঘটনার কয়েক মিনিট পর ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলার পরও তাঁরা ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই জোনাথনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁকে হত্যার কারণ বা সম্ভাব্য কোনো উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি পুলিশ।

গ্রেপ্তার ওই দম্পতিকে সান্তা রিটা কারাগারে রাখা হয়েছে।

সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স্ক ওই দম্পতির মেয়ে ক্যান্ডিস ঝাংয়ের সঙ্গে জোনাথনের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। এক সপ্তাহ পর ওই মামলার শুনানির তারিখ ছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা ২০১২ সাল থেকে বিবাহিত এবং তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। জোনাথন হত্যাকাণ্ডের পর ক্যান্ডিসের নামে থাকা ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।

তথ্য সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান​

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাবরের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন আকরাম

বাবরের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন আকরাম

ইংল্যান্ড সফরে ধবলধোলাই হওয়ার পর সপ্তাহখানেকের বেশি কেটে গেছে। কিন্তু পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যেন থামছেই না। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে শোচনীয় হারের পর পাকিস্তান দলের কোচ ও খেলোয়াড় ছাঁটাই নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু তৃতীয় টেস্টের আগে দলের অধিনায়ক বাবর আজম সাফ জানিয়ে দেন, এসব সিদ্ধান্তের কিছুই নাকি তিনি জানতেন না। এ নিয়েই এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক কিংবদন্তি পেসার ও অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। তাঁর কথা, নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে বাবর যদি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে থাকতেন, তবেই পাকিস্তান ক্রিকেটের ভালো হতো।

সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে এক দাতব্য তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে সাবেক সতীর্থ ওয়াকার ইউনিসের পাশে বসেই বাবর আজমের ওপর তোপ দাগেন ওয়াসিম আকরাম। প্রথম দুই টেস্টের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যখন কোচ সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকে ছাঁটাই করে এবং দল থেকে সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠায়, তখন বার্মিংহামে তৃতীয় টেস্টের টসে এসে বাবর দাবি করেছিলেন, ‘এসব আমার কাছেও নতুন খবর।’ পিসিবির দিকে আঙুল তুলে বাবর বলেছিলেন, সাংবাদিকেরা যেন এই প্রশ্নগুলো বোর্ডকেই জিজ্ঞেস করেন।

বাবর আজমের সঙ্গে ওয়াসিম আকরাম। ইনস্টাগ্রাম

দলের এত বড় রদবদলের খবর অধিনায়ক জানবেন না, এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ওয়াসিম আকরাম। চরম ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি তাই প্রশ্ন তুলেছেন দলের অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে, ‘বাবর আজম বলেছে সে কিছুই জানত না। তুমি যদি কিছুই না জানো, তবে এখানে কী করছিলে? ছোলা বিক্রি করতে এসেছিলে নাকি?’

অধিনায়কের এমন অবস্থান দলের জন্য চরম ক্ষতিকর উল্লেখ করে আকরাম বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে বা একজন মানুষ হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আপনার অধিনায়ক যদি আপনার পাশে না দাঁড়ান, তবে আপনি মাঠে শতভাগ দিতে পারবেন না।’

ওয়াসিম আকরামের মতে, পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তখন বাবরের উচিত ছিল অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো। আকরামের পরামর্শ, ‘আমার মনে হয়, দ্বিতীয় টেস্টের পরপরই বাবরের বলা উচিত ছিল যে সে আর অধিনায়কত্ব করবে না, শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে সিরিজটি খেলবে। বাবরের টেস্ট অধিনায়কত্ব নেওয়াটাই উচিত হয়নি। এই পুরো ঝামেলার কোনো দরকারই ছিল না।’

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যাবর্তনটা ভালো হয়নি বাবর আজমের। রয়টার্স


শান মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গত ৫ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য নতুন করে টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পান বাবর আজম। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি, যেখানে ২০টি ম্যাচে ১০টি জয়, ৬টি হার ও ৪টি ড্র ছিল তাঁর ঝুলিতে।

নতুন মেয়াদের শুরুতেই অবশ্য ভালো কিছু করে দেখাতে পারেননি বাবর। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দুই টেস্টের সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ করার পর ইংল্যান্ডের মাটিতে এসে জোটে ৩–০ ব্যবধানে হারের লজ্জা। লিডসে হেডিংলি টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানের হার এবং লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে শুরু হয় সেই তথাকথিত শুদ্ধি অভিযান। সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠিয়ে ও কোচিং স্টাফে পরিবর্তন এনেও শেষরক্ষা হয়নি। বার্মিংহামের এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জিতে পাকিস্তানকে পুরোপুরি হোয়াইটওয়াশ করে।

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট কার

টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট কার


আনাইরিন ডোনাল্ডের শুরুটা ভালো হলো, নাকি খারাপ?

কাল অভিষেক ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ বলে ১২ রান করে আউট হয়েছেন ইংল্যান্ডের এই ওপেনার। ইনিংসটা লম্বা হয়নি, ইংল্যান্ডের এই দলে সেটি জরুরিও নয়। উইকেটে এসেই ব্যাট চালাতে হবে। অভিষেকেই ডোনাল্ড দেখিয়েছেন, কাজটা তিনি পারেন। পারেন বলেই তিনি এই ইংল্যান্ড দলে এসেছেন। কতটা পারেন?

একটা পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝাই। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে স্বীকৃত টি-টুয়েন্টিতে ডোনাল্ডের স্ট্রাইক রেট ভারতের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীর চেয়েও বেশি।


স্ট্রাইক রেটে এগিয়ে যাঁরা (১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে)


​

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ডোনাল্ডের আধিপত্য ২০২৫ সাল থেকে। সব মিলিয়ে স্ট্রাইক রেটের তালিকায় সবার ওপরে কে—এই প্রশ্নটা আসতেই পারে। ন্যূনতম ২৫০ বল খেলেছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে স্বীকৃতটি-টুয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইকরেট সূর্যবংশীর। এখানে ডোনাল্ড আছেন ১৮ নম্বরে।




বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভেজা আউটফিল্ডে ম্যাচ পরিত্যক্ত, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ভেজা আউটফিল্ডে ম্যাচ পরিত্যক্ত, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

আগামীকাল বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় জাপানের মুখোমুখি হবে ভারত। এ ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ।

এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেট দল এর আগে দুবার রুপা এবং একবার ব্রোঞ্জ জিতেছে। বাংলাদেশ দলের ব্যাটার সোবহানা মুশতারি চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে পদক নিয়ে দেশে ফেরার আশাবাদ রাখেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো ভিডিও বার্তায়, ‘আমরা প্রথম অনুশীলন করলাম। এর আগে আমরা এশিয়ান গেমসে একটা পদক পেয়েছি (আসলে তিনটি)। আশা করছি, এবারও একটা পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারব।’



​চীনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ম্যাচ। ২০১০ এশিয়ান গেমস সেমিতে চীনকে ৩৪ রানে অলআউট করে ৭ ওভারে ৯ উইকেটে জিতে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেই ম্যাচের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না। যার অর্থ আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে চীনের বিপক্ষে আজই প্রথম ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টিতে খেলাটা আর হলো না। ​

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্যালন ডি’অরে কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী, কারা দেন ভোট

ব্যালন ডি’অরে কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী, কারা দেন ভোট


কিলিয়ান এমবাপ্পে বলছেন এবারের ব্যালন ডি’অরটা তাঁর প্রাপ্য। লামিনে ইয়ামাল বলছেন, যেহেতু স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছে তাই সোনার গোলক জয়ে তিনিই প্রধান দাবিদার। কে জিতবেন এবারের ব্যালন ডি’অর, পাবেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি, সেটি নিয়ে কথা বলছেন সাবেক-বর্তমান আরও অনেক খেলোয়াড়। বর্ষসেরার ট্রফিটি কার হাতে উঠছে, তা নিয়ে সমর্থক ও বিশেষজ্ঞদের জল্পনা-কল্পনারও শেষ নেই।

এদিক দিয়ে এবারের ব্যালন ডি’অরকে অন্য রকম বলাই যায়। কাছেপিঠের সময়ে ব্যালন ডি’অরের আগে এত আলোচনা হয়নি। কারণটা অনুমিতই, বিগত কয়েক বছরের মতো এবার আগেভাগেই কোনো নিশ্চিত ফেবারিট পাওয়া যাচ্ছে না; বরং লড়াইটা হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি।

কিন্তু কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী? কারা দেন ভোট? আর পয়েন্ট সমান হলে নিষ্পত্তিই–বা হয় কীভাবে?


ব্যালন ডি’অর কী?

পুরুষ ও নারী ফুটবলের বর্ষসেরা খেলোয়াড়দের দেওয়া ব্যালন ডি’অরকে একক অর্জনের দিক থেকে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার মনে করা হয়। ১৯৫৬ সাল থেকে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ পুরুষ বিভাগে এই পুরস্কার প্রদান করে আসছে। আর নারী ফুটবলারদের জন্য ‘ব্যালন ডি’অর ফেমেনিন’ চালু হয় ২০১৮ সালে। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে আয়োজন স্থগিত থাকায় ২০২৬ সালেরটি হতে যাচ্ছে ট্রফিটির ৭০তম সংস্করণ। 


সেরা বেছে নিতে মূল বিবেচ্য বিষয় কী কী?

ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারক প্যানেল মূলত তিনটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করেন—
১. ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও পারফরম্যান্স
২. দলের হয়ে সাফল্য এবং অর্জিত শিরোপা
৩. মান ও ‘ফেয়ার প্লে’

মনোনীতদের তালিকা ও মূল্যায়ন সময়কাল

ফ্রান্স ফুটবলের নির্ধারিত ৩০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত মনোনীত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। ২০২২ সালের পর থেকে নিয়ম পরিবর্তন করে বর্ষপঞ্জির বদলে ইউরোপীয় ফুটবল মৌসুমকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

সেই অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য ৩ আগস্ট ২০২৫ থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স বিচার করা হবে। তবে ব্যতিক্রমী ছাড় দেওয়া হয়েছে ১৬ আগস্ট শেষ হওয়া নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসকে, যা এই মৌসুমের পারফরম্যান্সের সঙ্গেই গণনা করা হবে।

আরও পড়ুন

ব্যালন ডি’অর ২০২৬ মনোনয়ন: ২০২৩ সালের পর প্রথমবার তালিকায় মেসি, আরও যাঁরা আছেন

ভোট দেন কারা?

সেরা পুরুষ ও নারী খেলোয়াড় নির্বাচনে রয়েছে বিশেষ সাংবাদিক জুরি বোর্ড। পুরুষ ফুটবলের জন্য ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশ থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত ১০০ জনের সাংবাদিক প্যানেল ভোট দেবেন। নারী ফুটবলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হলেও সেখানে জুরি প্রতিনিধির সংখ্যা ৫০।
টানা তিনবারের নারী ব্যালন ডি’অরজয়ী আইতানা বোনমাতি এবার সংক্ষিপ্ত তালিকাতেই নেই
টানা তিনবারের নারী ব্যালন ডি’অরজয়ী আইতানা বোনমাতি এবার সংক্ষিপ্ত তালিকাতেই নেই
রয়টার্স

ভোট দেওয়ার নিয়ম ও পয়েন্ট বিন্যাস

ভোটাররা ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ক্রমানুসারে তাঁদের শীর্ষ ১০ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেবেন। অবস্থানের ভিত্তিতে ফুটবলারদের পয়েন্ট বণ্টন করা হবে এভাবে—
প্রথম স্থান: ১৫ পয়েন্ট
দ্বিতীয় স্থান: ১২ পয়েন্ট
তৃতীয় স্থান: ১০ পয়েন্ট
চতুর্থ স্থান: ৮ পয়েন্ট
পঞ্চম স্থান: ৭ পয়েন্ট
ষষ্ঠ স্থান: ৫ পয়েন্ট
সপ্তম স্থান: ৪ পয়েন্ট
অষ্টম স্থান: ৩ পয়েন্ট
নবম স্থান: ২ পয়েন্ট
দশম স্থান: ১ পয়েন্ট
সব পয়েন্ট যোগ করার পর সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ফুটবলারের হাতেই উঠবে বহুল কাঙ্ক্ষিত ব্যালন ডি’অর।

পয়েন্ট সমান হলে নিষ্পত্তি কীভাবে?

দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের মোট পয়েন্ট সমান হলে টাইব্রেকার হিসেবে দেখা হবে কে সবচেয়ে বেশি প্রথম স্থানের (১৫ পয়েন্ট) ভোট পেয়েছেন। তাতেও সমতা না ভাঙলে একইভাবে দেখা হবে দ্বিতীয় স্থানের ভোটের সংখ্যা।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্যালন ডি’অরে কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী, কারা দেন ভোট

ব্যালন ডি’অরে কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী, কারা দেন ভোট


কিলিয়ান এমবাপ্পে বলছেন এবারের ব্যালন ডি’অরটা তাঁর প্রাপ্য। লামিনে ইয়ামাল বলছেন, যেহেতু স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছে তাই সোনার গোলক জয়ে তিনিই প্রধান দাবিদার। কে জিতবেন এবারের ব্যালন ডি’অর, পাবেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি, সেটি নিয়ে কথা বলছেন সাবেক-বর্তমান আরও অনেক খেলোয়াড়। বর্ষসেরার ট্রফিটি কার হাতে উঠছে, তা নিয়ে সমর্থক ও বিশেষজ্ঞদের জল্পনা-কল্পনারও শেষ নেই।

এদিক দিয়ে এবারের ব্যালন ডি’অরকে অন্য রকম বলাই যায়। কাছেপিঠের সময়ে ব্যালন ডি’অরের আগে এত আলোচনা হয়নি। কারণটা অনুমিতই, বিগত কয়েক বছরের মতো এবার আগেভাগেই কোনো নিশ্চিত ফেবারিট পাওয়া যাচ্ছে না; বরং লড়াইটা হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি।

কিন্তু কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী? কারা দেন ভোট? আর পয়েন্ট সমান হলে নিষ্পত্তিই–বা হয় কীভাবে?


ব্যালন ডি’অর কী?

পুরুষ ও নারী ফুটবলের বর্ষসেরা খেলোয়াড়দের দেওয়া ব্যালন ডি’অরকে একক অর্জনের দিক থেকে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার মনে করা হয়। ১৯৫৬ সাল থেকে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ পুরুষ বিভাগে এই পুরস্কার প্রদান করে আসছে। আর নারী ফুটবলারদের জন্য ‘ব্যালন ডি’অর ফেমেনিন’ চালু হয় ২০১৮ সালে। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে আয়োজন স্থগিত থাকায় ২০২৬ সালেরটি হতে যাচ্ছে ট্রফিটির ৭০তম সংস্করণ। 


সেরা বেছে নিতে মূল বিবেচ্য বিষয় কী কী?

ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারক প্যানেল মূলত তিনটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করেন—
১. ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও পারফরম্যান্স
২. দলের হয়ে সাফল্য এবং অর্জিত শিরোপা
৩. মান ও ‘ফেয়ার প্লে’

মনোনীতদের তালিকা ও মূল্যায়ন সময়কাল

ফ্রান্স ফুটবলের নির্ধারিত ৩০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত মনোনীত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। ২০২২ সালের পর থেকে নিয়ম পরিবর্তন করে বর্ষপঞ্জির বদলে ইউরোপীয় ফুটবল মৌসুমকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

সেই অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য ৩ আগস্ট ২০২৫ থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স বিচার করা হবে। তবে ব্যতিক্রমী ছাড় দেওয়া হয়েছে ১৬ আগস্ট শেষ হওয়া নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসকে, যা এই মৌসুমের পারফরম্যান্সের সঙ্গেই গণনা করা হবে।

আরও পড়ুন

ব্যালন ডি’অর ২০২৬ মনোনয়ন: ২০২৩ সালের পর প্রথমবার তালিকায় মেসি, আরও যাঁরা আছেন

ভোট দেন কারা?

সেরা পুরুষ ও নারী খেলোয়াড় নির্বাচনে রয়েছে বিশেষ সাংবাদিক জুরি বোর্ড। পুরুষ ফুটবলের জন্য ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশ থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত ১০০ জনের সাংবাদিক প্যানেল ভোট দেবেন। নারী ফুটবলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হলেও সেখানে জুরি প্রতিনিধির সংখ্যা ৫০।
টানা তিনবারের নারী ব্যালন ডি’অরজয়ী আইতানা বোনমাতি এবার সংক্ষিপ্ত তালিকাতেই নেই
টানা তিনবারের নারী ব্যালন ডি’অরজয়ী আইতানা বোনমাতি এবার সংক্ষিপ্ত তালিকাতেই নেই
রয়টার্স

ভোট দেওয়ার নিয়ম ও পয়েন্ট বিন্যাস

ভোটাররা ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ক্রমানুসারে তাঁদের শীর্ষ ১০ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেবেন। অবস্থানের ভিত্তিতে ফুটবলারদের পয়েন্ট বণ্টন করা হবে এভাবে—
প্রথম স্থান: ১৫ পয়েন্ট
দ্বিতীয় স্থান: ১২ পয়েন্ট
তৃতীয় স্থান: ১০ পয়েন্ট
চতুর্থ স্থান: ৮ পয়েন্ট
পঞ্চম স্থান: ৭ পয়েন্ট
ষষ্ঠ স্থান: ৫ পয়েন্ট
সপ্তম স্থান: ৪ পয়েন্ট
অষ্টম স্থান: ৩ পয়েন্ট
নবম স্থান: ২ পয়েন্ট
দশম স্থান: ১ পয়েন্ট
সব পয়েন্ট যোগ করার পর সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ফুটবলারের হাতেই উঠবে বহুল কাঙ্ক্ষিত ব্যালন ডি’অর।

পয়েন্ট সমান হলে নিষ্পত্তি কীভাবে?

দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের মোট পয়েন্ট সমান হলে টাইব্রেকার হিসেবে দেখা হবে কে সবচেয়ে বেশি প্রথম স্থানের (১৫ পয়েন্ট) ভোট পেয়েছেন। তাতেও সমতা না ভাঙলে একইভাবে দেখা হবে দ্বিতীয় স্থানের ভোটের সংখ্যা।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)


এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ সকালে চীনের মুখোমুখি বাংলাদেশ। আছে ভারত-আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা টি-টুয়েন্টি।

এশিয়ান গেমস: নারী ক্রিকেট

বাংলাদেশ-চীন
সকাল ৬টা, সনি স্পোর্টস ১

পাকিস্তান-থাইল্যান্ড
বেলা ১১টা, সনি স্পোর্টস ১

৩য় টি-টুয়েন্টি

ভারত-আফগানিস্তান
রাত ৮টা, সনি স্পোর্টস ৫

২য় টি-টুয়েন্টি

ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা
রাত ১১-৩০ মি., সনি স্পোর্টস ১

ইউরোপা লিগ

ক্রিট-হফেনহাইম
রাত ১০-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ২

জুভেন্টাস-নাইমেগান
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ২

প্যালেস-পোজনানিয়ে
রাত ১টা, সনি স্পোর্টস ৫

লা লিগা

বেতিস-হেতাফে
রাত ১১টা, টি স্পোর্টস

মালাগা-ভিয়ারিয়াল
রাত ১-৩০ মি., টি স্পোর্টস

কারাবাও কাপ

ম্যানচেস্টার সিটি-নরউইচ
রাত ১২-৩০ মি., ফ্যানকোড

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের

৫০ বছর আগের তেতো স্মৃতি উসকে বিদায় ইউনাইটেডের


চলতি বছর জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরান মাইকেল ক্যারিক। পুরস্কার হিসেবে স্থায়ী কোচ বানিয়ে তাঁর সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি করে ইউনাইটেড। কিন্তু চলতি মৌসুমে আবারও পুরোনো রোগেই পেয়ে বসেছে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটিকে।

মৌসুমে এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে হার ৩টি। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে ৪ ম্যাচেই হেরেছে দুটি, ড্র একটি। অন্য যে হারটি, সেটা কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে। গতকাল রাতের এই হারই সম্ভবত ইউনাইটেড সমর্থকদের কষ্ট দেবে সবচেয়ে বেশি। ঘরের মাঠে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ইউনাইটেড।



হারের ধরনটাও মর্মান্তিক। ১০ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হেরেছে ক্যারিকের দল। গত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে কোনো ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হারল ইউনাইটেড। ১৯৭৬ সালে এই সেপ্টেম্বরেই প্রথম বিভাগ লিগে টটেনহামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও হারতে হয়। সেই ম্যাচেও ইউনাইটেডের হারের ব্যবধান ছিল ৩-২।

প্রিমিয়ার লিগের দল ব্রাইটন অর্ধশতাব্দী আগের সেই তেতো স্মৃতিই ফিরিয়ে এনেছিল ওল্ড ট্রাফোর্ডে। ইউনাইটেডের অনেক বয়স্ক সমর্থকের কাছেও সেই হারের স্মৃতি অনেক পুরোনো। কারণ, ইউনাইটেডের সোনালি সময়ের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও তখন ওল্ড ট্রাফোর্ডে যোগ দেননি। ফার্গুসন তখন সেন্ট মিরেনের কোচ। আর বিবিসি লিখেছে, টটেনহামের সেই জয়ের সময় ইউনাইটেডের কিংবদন্তিতুল্য ক্লাস অব নাইন্টি টুর খেলোয়াড়েরা ডায়াপার পরতেন।




‘ম্যানচেস্টার ডার্বি–তে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি ইউনাইটেডের সমর্থকদের। তারপর ব্রাইটনের কাছে এমন হারে মেজাজ আর ধরে রাখতে পারেননি সমর্থকেরা। শেষ বাঁশি বাজার পর তাই গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি শুনতে হয় ক্যারিকের দলকে। খেলোয়াড়েরা মাঠ প্রদক্ষিণের সময় বেশির ভাগ ইউনাইটেড সমর্থকই গ্যালারি ছেড়ে গিয়েছিলেন। থেকে যাওয়া সমর্থকেরা দুয়ো দেন।

হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে ইউনাইটেড কোচ ক্যারিক বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ভাগের পারফরম্যান্সের দায় আমিই নিচ্ছি। এর পুরো দায় আমার।’ প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে একটি গোল হজমের পর ৬৫ ও ৬৯ মিনিটে আরও দুটি গোল হজম করে ইউনাইটেড।


বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬ গোল হজম বাংলাদেশের

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬ গোল হজম বাংলাদেশের


এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ফুটবল ইভেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে আজ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৮ ধাপ এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৬-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

এর আগে প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়াও শক্তি, র‍্যাঙ্কিং ও অভিজ্ঞতার বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়া পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলেছে। এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে নয়বার, জিতেছে তিনটি ব্রোঞ্জপদক।




তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণের ধার বেড়েছে। বাংলাদেশও ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। ১৬ মিনিটে কিম মিনজির গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জং দাবিন।

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধের তুলনায় আজ অবশ্য অনেক ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। গোল করতে না পারলেও প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার চেষ্টা ছিল দেখার মতো। প্রথমার্ধে চারটি সেভ করেন গোলকিপার রুপনা। দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি শট রুখে দেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহী পাকিস্তান

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহী পাকিস্তান


ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। নিজেদের এই অনড় অবস্থান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চিঠি লিখে আইসিসিকে জানিয়ে দেওয়ার পর এবার দৃশ্যপটে হাজির পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের জিও টিভির এক খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করার আগ্রহ দেখিয়েছে পিসিবি।

ঘটনার সূত্রপাত উগ্রবাদীদের চাপের মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে। এর জের ধরে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের টানাপোড়েনটা ক্রিকেট ছাপিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে চলে গেছে। কেকেআর, আইপিএল বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলেনি। তবে এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বাংলাদেশও।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়
প্রথম আলো

এরই মধ্যে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ গুজরাটের বরোদরায় বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করার কথা আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহর। তবে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হয়েছে কি না, তা এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত জানা যায়নি।

এরই মধ্যে পিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র পাকিস্তানের জিও নিউজকে বলেছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পাকিস্তানের মাঠগুলো ‘প্রস্তুত ও পুরোপুরি সজ্জিত’। শ্রীলঙ্কার ভেন্যু পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান এগিয়ে আসতে পারে। পিসিবি মনে করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বেশ সফলতার সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ ও নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব আয়োজন করে সবার আস্থা অর্জন করেছে।

পিসিবি ও এসিসি প্রধান মহসিন নাকভি
পিসিবি ও এসিসি প্রধান মহসিন নাকভি
এএফপি

পিসিবির দাবি, আইসিসি চাইলে তারা সহজেই বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পারবে। পাকিস্তানের সব ভেন্যুই প্রস্তুত আছে। পিসিবি এ ব্যাপারে আইসিসিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব না দিলেও বিসিবির ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার অবস্থানকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সমর্থন জানাচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।


বর্তমান সূচি অনুযায়ী, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে।

রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

তামিল সিনেমায় নতুন ইতিহাস গড়লেন রজনীকান্ত এর ‘জেলার ২’

তামিল সিনেমায় নতুন ইতিহাস গড়লেন রজনীকান্ত এর ‘জেলার ২’

মুক্তির মাত্র ১১ দিনেই বিশ্বজুড়ে ৭০০ কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক পেরিয়ে ইতিহাস গড়ল রজনীকান্ত অভিনীত ছবি ‘জেলার ২’। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত ছবিটি প্রথম তামিল সিনেমা হিসেবে এই নজির গড়েছে। শুধু তা–ই নয়, ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া রজনীকান্ত এবং অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘টু পয়েন্ট জিরো’র রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে ছবিটি। ওই ছবির বিশ্বজুড়ে মোট আয় ছিল প্রায় ৬৯১ কোটি রুপি।
১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর মধ্যে একটি ‘জেলার ২’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বজুড়ে ৫০০ কোটি রুপি আয়ের গণ্ডি পেরিয়ে যায় ছবিটি। দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেও বক্স অফিসে দাপট অব্যাহত রেখেছে এই অ্যাকশনধর্মী ছবি। মুক্তির ১১তম দিনে, গত রোববার ভারতে ছবিটির নিট আয় হয়েছে ২৫ কোটি ৭০ লাখ রুপি। আগের দিনের তুলনায় আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এদিন ভারত ও বিদেশের বাজার মিলিয়ে ছবিটির মোট আয় হয়েছে ৭১০ কোটি ৩৫ লাখ রুপি।


ভারতে ছবিটির মোট নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি। করসহ মোট আয় ৪৬৬ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। বিদেশের বাজার থেকে এসেছে ২৪৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। ফলে ভারতের বক্স অফিসেও ৪০০ কোটি রুপি নিট আয়ের মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ছবিটি। ভাষাভিত্তিক আয়ের হিসাবেও তামিল সংস্করণ এগিয়ে রয়েছে। রোববার তামিল সংস্করণ থেকে আয় হয়েছে ১৭ কোটি ৩৫ লাখ রুপি। তেলেগু সংস্করণ আয় করেছে ৪ কোটি ৫০ লাখ রুপি, হিন্দি সংস্করণ থেকে এসেছে ৩ কোটি ১৫ লাখ রুপি। কন্নড় সংস্করণের আয় ৭০ লাখ রুপি।


ছবিটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দক্ষিণ ভারতের পাশাপাশি বিদেশের বাজারও। তামিলনাড়ুতে ছবিটির আয় সবচেয়ে বেশি। কর্ণাটক, অন্ধ্র প্রদেশ-তেলেঙ্গানা ও কেরালাতেও ভালো ব্যবসা করছে ছবিটি। উত্তর ভারতের বাজারেও হিন্দি সংস্করণ থেকে আয় হচ্ছে। ‘জেলার ২’-এ অবসরপ্রাপ্ত জেলর টাইগার মুথুভেল পাণ্ডিয়ানের চরিত্রে ফিরেছেন রজনীকান্ত। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন রম্যা কৃষ্ণন, এস জে সুরিয়া, মিঠুন চক্রবর্তী, বিদ্যা বালান, মোহনলাল, শিব রাজকুমার, জ্যাকি শ্রফ ও হৃতিক রোশন। ছবিটির প্রযোজনা করেছে সান পিকচার্স, সংগীত পরিচালনা করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দর।

এবার ছবিটির লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে আয়ের তালিকায় আরও ওপরে যাওয়া। ভিকি কৌশল অভিনীত ‘ছাভা’ ও আমির খান অভিনীত ‘পিকে’র আয়ের রেকর্ড পেরোতে পারবে কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে ১১ দিনেই তামিল সিনেমার সর্বোচ্চ আয়কারী ছবির জায়গা দখল করে নিয়েছে ‘জেলার ২’।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

দেনমোহর মাত্র ৯৯৯ টাকা, বিয়ে করলেন অভিনেতা শিমুল

দেনমোহর মাত্র ৯৯৯ টাকা, বিয়ে করলেন অভিনেতা শিমুল

মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সুজাত শিমুল বিয়ে করেছেন। তাঁর স্ত্রী জান্নাতুন নেছা থিয়েটার ও আবৃত্তিকর্মী। গত শনিবার সন্ধ্যায় মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এতে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে তাঁদের দেনমোহরের অঙ্কটি নিয়েই রয়েছে বাড়তি কৌতূহল। কারণ, সুজাত শিমুল ও জান্নাতুন নেছার বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৯৯৯ টাকা।

কেন দেনমোহরের অঙ্ক হিসেবে ৯৯৯ টাকা বেছে নিলেন তাঁরা? এর পেছনে রয়েছে তাঁদের নিজস্ব ভাবনা, জীবনের পূর্ণতা-অপূর্ণতার দর্শন এবং বিয়েকে দেখার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। প্রথম আলোকে সুজাত শিমুল জানালেন, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তাঁরা চেয়েছিলেন দেনমোহরের অঙ্কটি হবে ব্যতিক্রমী। এমন একটি সংখ্যা, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যার মধ্যে থাকবে বিশেষ অর্থ।
সুজাত শিমুল বলেন, ‘আমরা যখন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই, তখন ভাবছিলাম, কাবিনটা হবে একটা ইউনিক নম্বর, যেটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই প্রয়োজনীয়। আমরা বিয়েকে জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি অংশ মনে করি। বিয়ের মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়, একধরনের পরিপূর্ণতা আসে। সেই প্রয়োজনীয়তার জায়গা থেকেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিপদ-আপদে যে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি, সেখান থেকেই ট্রিপল নাইনের ধারণাটা আসে।’
৯৯৯ সংখ্যাটির মধ্যে আরেকটি তাৎপর্যও খুঁজে পেয়েছেন সুজাত শিমুল। তাঁর মতে, ‘৯৯৯ পাশাপাশি থাকলেও সংখ্যাটির পরের ঘরে একটি শূন্যস্থান রয়ে যায়। এটি মানুষের জীবনের অপূর্ণতার প্রতীক। মানুষের জীবন কখনোই পুরোপুরি পরিপূর্ণ হয় না; কোথাও না কোথাও কিছুটা ঘাটতি থেকেই যায়। এসব কারণে আমরা ট্রিপল নাইন, অর্থাৎ ৯৯৯ বেছে নিয়েছি। একের জন্য পরিপূর্ণতা, অর্থাৎ সহস্রের যে ঘর, সেটি পূর্ণ হয়নি। আরেকটা মজার বিষয় হলো, আমার শ্বশুর পুলিশে ছিলেন। সেটিও ৯৯৯ পছন্দ করার একটা কারণ। সব মিলিয়ে ৯৯৯ সংখ্যাটা আমাদের পছন্দের।’


তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু সংখ্যার প্রতি ভালো লাগা কিংবা ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, রয়েছে বিয়ে ও দেনমোহর নিয়ে সামাজিকভাবে প্রচলিত ধারণার প্রতিও তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি। সুজাত শিমুল বললেন, ‘সবচেয়ে বড় যে বার্তা দিতে চেয়েছি, আমরা বিয়েতে কাবিন করতে গিয়ে এত লাখ টাকা, এত লাখ টাকা—এর মধ্যে যেন মনে হয়, একটা বিনিময় কিংবা আস্থা-অনাস্থার বিষয় সামাজিকভাবে হয়ে আসছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, নারী হিসেবে একটা সাহস—৯৯৯ টাকা কাবিনে বিয়ে করছে। অনেক কিছু মিলেই এই ৯৯৯ টাকার ভাবনাটা এসেছে।’ গতকাল বিয়ে আসরে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, লেখক–সাংবাদিক আনিসুল হকসহ বর-কনের পরিবারের সদস্যরা।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকায় আসছে ‘স্ট্রিট ফাইটার’

ঢাকায় আসছে ‘স্ট্রিট ফাইটার’

সবুজ চামড়ার ব্ল্যাঙ্কা হয়ে হাজির হচ্ছেন জেসন মোমোয়া। ধালসিমের ভূমিকায় দেখা যাবে ভারতের অ্যাকশন তারকা বিদ্যুৎ জামওয়ালকে। আর আকুমা হয়ে লড়াইয়ে নামছেন রেসলিং তারকা রোমান রেইন্স। ভিডিও গেমের পরিচিত যোদ্ধাদের এমন তারকাবহুল সমাবেশ নিয়ে বড় পর্দায় আসছে ‘স্ট্রিট ফাইটার’। আগামীকাল শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, একই দিনে বাংলাদেশের এই মাল্টিপ্লেক্সেও মুক্তি পাবে ছবিটি।

ক্যাপকমের জনপ্রিয় ফাইটিং গেম সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি পরিচালনা করেছেন কিতাও সাকুরাই। গেমের পরিচিত চরিত্র ও তাঁদের লড়াই এবার দেখা যাবে লাইভ অ্যাকশনে। রিউ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যান্ড্রু কোজি, কেন মাস্টার্স হয়েছেন নোয়া সেন্টিনিও। চুন-লির ভূমিকায় আছেন ক্যালিনা লিয়াং।
ছবির গল্প এগিয়েছে ১৯৯৩ সালের প্রেক্ষাপটে। দুই মার্শাল আর্ট যোদ্ধা রিউ ও কেন মাস্টার্সের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। রহস্যময়ী চুন-লি তাঁদের আবার লড়াইয়ের ময়দানে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর আহ্বানে দুজন যোগ দেন ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ারিয়র টুর্নামেন্ট’-এ। সেখানে অপেক্ষা করছে দুর্ধর্ষ সব প্রতিপক্ষ।

তবে এই প্রতিযোগিতা কেবল শক্তি আর কৌশল দেখানোর মঞ্চ নয়। এর আড়ালে রয়েছে এক প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র। প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি রিউ ও কেনকে নিজেদের অতীতের মুখোমুখি হতে হবে। পরিস্থিতি তাঁদের দাঁড় করিয়ে দেবে একে অপরের বিরুদ্ধেও।
অ্যাকশনের পাশাপাশি ছবিটির বড় আকর্ষণ বিভিন্ন চরিত্রে পরিচিত তারকাদের উপস্থিতি। মোমোয়া, জামওয়াল ও রোমান রেইন্সের সঙ্গে আছেন আরেক রেসলিং তারকা কোডি রোডস; তাঁকে দেখা যাবে গাইল চরিত্রে। এম বাইসনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ডেভিড ডাস্টমালচিয়ান। বালরগ হয়েছেন র‍্যাপার ও অভিনেতা কার্টিস ‘ফিফটি সেন্ট’ জ্যাকসন।
ভারতীয় দর্শকদের জন্য আলাদা আগ্রহের জায়গা বিদ্যুৎ জামওয়াল। অ্যাকশন ছবির পরিচিত এই অভিনেতাকে এবার দেখা যাবে ধালসিমের ভূমিকায়। অন্যদিকে ব্ল্যাঙ্কা চরিত্রে মোমোয়ার সবুজ চামড়ার রূপও নজর কাড়ছে। চলচ্চিত্র, সংগীত ও রেসলিংয়ের তারকাদের একসঙ্গে পর্দায় দেখার সুযোগ থাকছে ছবিটিতে।

গেমের ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবে প্রিয় চরিত্রগুলোর লড়াই। ‘হাডুকেন’ থেকে ঘূর্ণায়মান কিক—গেমের চেনা আক্রমণগুলো বড় পর্দায় তুলে আনার কথা জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেজেন্ডারি ও পরিবেশক প্যারামাউন্ট। আর্কেডের পরিচিত সেই লড়াই সিনেমা হলে কতটা জমবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে মুক্তি পর্যন্ত।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

‘কাল থাকব কি না জানি না’—নানা পাটেকরের শেষ কথা

‘কাল থাকব কি না জানি না’—নানা পাটেকরের শেষ কথা

‘আমরা সবাই একদিন চলে যাব। আমি কাল থাকব কি না, জানি না।’ মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এমন কথাই বলেছিলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর।

জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে তাঁর সেই কথার কয়েক দিন পরই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাসায় তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

ভোরে বাসায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় নানা পাটেকরকে। দ্রুত তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন চিকিৎসকেরা। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফেরানো যায়নি। ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার জানিয়েছেন, নানা পাটেকরকে যখন হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় মেডিকো-লিগ্যাল মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত করা হবে বলেও জানা গেছে।

৪ অক্টোবর গোয়ার ডোনা পাওলায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। সেখানেই জীবনের শেষ সময় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

নানা বলেন, ‘আমরা সবাই একদিন চলে যাব। আমি কাল থাকব কি না, জানি না। প্রত্যেক মানুষের জীবনই একদিন শেষ হবে। কিন্তু তার আগে আমাকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে: আমি যা করতে চাই, তা কি করতে পারছি?’

অভিনেতা আরও বলেন, শুধু স্ত্রী, সন্তান ও নিজের ঘর নিয়ে জীবন সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদও থাকা দরকার।

সেই অনুষ্ঠানে গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকরকে স্মরণ করেন নানা। তাঁকে নিজের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অল্প সময়ের জীবনে একজন মানুষ কতটা কাজ করে যেতে পারেন, পারিকর ছিলেন তার উদাহরণ।

১৯৫১ সালে জন্ম নানা পাটেকারের। ১৯৭৮ সালে মারাঠি ছবি ‘গমন’ দিয়ে অভিনয় শুরু করেন তিনি। পরে হিন্দি ও মারাঠি দুই ভাষার সিনেমায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি’ ও ‘আব তক ছাপ্পান’-এর মতো ছবিতে নানার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। আবার ‘ওয়েলকাম’ ও ‘হাউসফুল’ সিরিজে হাস্যরসের অভিনয়েও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

মৃত্যুর আগপর্যন্ত অভিনয় করেছেন নানা। ‘হাউসফুল ৫’-এর পর তাঁকে দেখা গেছে বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও’রোমিও’ ছবিতে। শাহিদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরির এই ছবিতে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

ফ্যাসিবাদের দোসর ধরলে পুরস্কার, ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ফ্যাসিবাদের দোসর ধরলে পুরস্কার, ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬: ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। যারা এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখবেন, তাদের পুরস্কৃত করারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারলে সংশ্লিষ্টদের পুরস্কৃত করা হবে। তিনি জানান, গত সপ্তাহে দুজন এবং গতকাল আরও একজন ফ্যাসিবাদের দোসর গ্রেপ্তার হয়েছেন। এত দিন তারা কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন, সে প্রশ্ন তুলে তিনি পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতাকে সর্বোত্তম আখ্যা দেন এবং অন্যান্য সংস্থার গোয়েন্দা তথ্য তুলনার জন্যই নেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন। পুলিশ সদস্যদের নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগানোরও আহ্বান জানান তিনি।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, এক মাসে দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর বিভিন্ন পরিসংখ্যানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা এক মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করতে পারে, আকাশ থেকে গুলি চালিয়ে নাগরিক হত্যা করতে পারে এবং দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, সেই শক্তিকে বাংলাদেশের মানুষ কখনো রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানাবে কি না। তিনি আরও বলেন, সেই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীরা কখনো দুঃখ প্রকাশ, অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনা না করে উল্টো দেশের বাইরে থেকে সোচ্চার রয়েছে।

শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের ফেরত আনার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলে বিচারপ্রক্রিয়া নিজস্ব গতিতে চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) ও বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইনুর কারাদণ্ড: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ইনুর কারাদণ্ড: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহযোগিতার দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল ৫০০ পৃষ্ঠার এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন। এদিকে, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ জুন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছরই কারাগারে থাকতে হবে তাকে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার দায় প্রমাণিত হয়েছে। এসব অপরাধে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার অভিযোগেও ইনুর দায় প্রমাণিত হয়েছে। এ অভিযোগে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে তাকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। 


দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের একটি সভা হয়। ওই সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ইনু ওই সভায় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তাদের একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য ইনু কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে ইনুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি এবং সরকার পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে সমর্থনের অভিযোগ করা হয়। তবে এ দুটি অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে খালাস দেন।

ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার কথা বলা হয়। এ অভিযোগে তার দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

সপ্তম অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগও প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।

অষ্টম অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে সারাদেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও ছিল। তবে এ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে এ অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলাতেও বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকাকালে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কোনো কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তার আচরণ আমাদের চিন্তিত করেছে: চরমোনাই পীর

কোনো কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তার আচরণ আমাদের চিন্তিত করেছে: চরমোনাই পীর


সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সুষ্ঠু নির্বাচন করার মতো কাঙ্ক্ষিত মানের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিদ্যমান নেই বলে মন্তব৵ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তার আচরণ আমাদের চিন্তিত করেছে।’

শনিবার রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। পরে দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।



নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের আমির রেজাউল করীম বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড একটি বহুমাত্রিক বিষয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোভাব, ঝোঁক ও প্রবণতা নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সুষ্ঠু নির্বাচন করার মতো কাঙ্ক্ষিত মানের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিদ্যমান নেই।

সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে চরমোনাইর পীর বলেন, ‘মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় কোনো কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তার আচরণ আমাদের চিন্তিত করেছে। আমরা এখনো আশাবাদী যে সরকার সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করবে, সকলের সঙ্গে সমান আচরণ করবে।’

ইসলামী আন্দোলনের আমির আরও বলেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারায় জনমনে আস্থা ফিরছে না। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও আশাব্যঞ্জক নয়। আশা করি সরকার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গুরুত্ব দেবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

বিএনপির নতুন ওয়েব অ্যাপ, সহজেই মতামত জানাতে পারবে জনগণ

বিএনপির নতুন ওয়েব অ্যাপ, সহজেই মতামত জানাতে পারবে জনগণ


জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, পলিসিভিত্তিক আলোচনা ও তরুণ প্রজন্মের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি নিয়ে এসেছে নতুন ওয়েব অ্যাপ ‘ম্যাচ মাই পলিসি’।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। পোস্টটি দেওয়া হয় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায়। পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ অ্যাপটি (www.matchmypolicy.net) বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল পলিসি প্ল্যাটফর্ম।



নতুন ওয়েব অ্যাপ ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ এনেছে বিএনপি




অ্যাপটি সম্পর্কে পোস্টে বলা হয়, ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ একটি সোয়াইপভিত্তিক ওয়েব অ্যাপ। এর ইন্টারফেস সহজ ও পরিচিত।

পোস্টে বলা হয়, ‘এখানে ম্যাচ হবে পলিসির সঙ্গে আপনার মতামতের। প্রতিটি স্ক্রিনে বিএনপির কিছু পলিসি বা পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকবে, আর আপনি সোয়াইপ করেই জানাতে পারবেন আপনার অবস্থান।’

এ ছাড়া অ্যাপে একটি ওপিনিয়ন (Opinion) অপশন রাখা হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এখানে লিখে জানানো যাবে পলিসি বিষয়ে পরামর্শ।

উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে পোস্টে বলা হয়, জেন-জি, তরুণ ও সাধারণ জনগণকে পলিসি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা। জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও গণমুখী, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করা।

অ্যাপটির শেষ অংশে ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ কিছু কনটেন্ট রাখা হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এই কনটেন্ট পলিসি ও বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে সাহায্য করবে।

বিএনপি মনে করে ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়, বরং এটি পলিসিনির্ভর রাজনীতি, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা।

ফেসবুক পোস্টের শেষে বলা হয় হয়, ‘আপনার মতামতই ভবিষ্যৎ গড়ার শক্তি।’

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬


বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।

  • গোপনীয়তার নীতি
  • শর্তাবলি
  • মন্তব্য প্রকাশের নীতিমালা
  • বিজ্ঞাপন
  • যোগাযোগ
  • ছুটির তালিকা
  • দিবস

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম রনি

  • ফোন : 01700000000
  • ফ্যাক্স : 01700000000
  • ই-মেইল: info@newscellbd.com
  • বিজ্ঞাপন বিভাগ: ad@newscellbd.com

logo

সোশ্যাল মিডিয়া

logologologologologo
logo

নিউজলেটার

logo

মোবাইল অ্যাপস

অ্যান্ড্রয়েড

আইফোন

স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।