logo
menu
কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত খামেনির, ট্রাম্প বলছেন পরিস্থিতি বিপজ্জনক

কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত খামেনির, ট্রাম্প বলছেন পরিস্থিতি বিপজ্জনক


ইরানে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থায় অসন্তোষ থেকে সৃষ্ট বিক্ষোভ চলছেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গতকাল সতর্ক করে বলেছে, দেশের নিরাপত্তা রক্ষাই তাদের জন্য ‘শেষ কথা’। বিদ্যমান পরিস্থিতি আর কোনোভাবেই চলতে পারে না। আর সেনাবাহিনী বলেছে, সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক এ বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার যখন তৎপরতা বাড়িয়েছে, তখন আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর তরফে এ বক্তব্য এল।

এর আগে গত শুক্রবার ইরানের নেতাদের আবার সতর্ক করে দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানায়, রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার জন্য ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বিক্ষোভে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য দেখানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর এসব সদস্য নিহত হয়েছেন।

মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ লাভ করে। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। অবশ্য ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এসব ‘দাঙ্গা’ উসকে দিচ্ছে।

এদিকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহর (মোহাম্মদ রেজা পাহলভি) ছেলে রেজা পাহলভি বিদেশ থেকে বিক্ষোভে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন।

হাসপাতালে অনেক আহত বিক্ষোভকারী

ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একজন চিকিৎসক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, শুক্রবার থেকে আহত অনেক বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে। কারও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। কারও হাত-পা ভাঙা। আবার কারও শরীরে গভীর ক্ষত রয়েছে। একটি হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অন্তত ২০ জনকে আনা হয়েছিল। পরে তাঁদের মধ্যে পাঁচজন মারা যান।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গাচসারানে ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ সঙ্গে সংঘর্ষে বসিজ বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচজন। পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদানে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বের মাশহাদের আহমদাবাদ এলাকায় নিহত হয়েছেন এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের ছেলে। গত দুই রাতে খুজেস্তানের শুশতার এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।

ইরানের মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত তারা ৬৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ জন বিক্ষোভকারী, ১৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

বিপ্লবী গার্ড ও সেনাবাহিনীর বিবৃতি

ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ (ব্ল্যাকআউট) রেখেছে। এ কারণে অনেক তথ্যই বহির্বিশ্বে পৌঁছাচ্ছে না।

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের একজন বাসিন্দা টেলিফোনে রয়টার্সকে জানান, তাঁদের এলাকায় আইআরজিসির সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা গুলি চালাচ্ছেন। নিরাপত্তার কারণে ওই ব্যক্তি তাঁর পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসীরা’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। আগুন দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনায়।

আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের জন্য ‘শেষ কথা’ (রেড লাইন)। বর্তমান পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর সেনাবাহিনী জানায়, তারা ‘জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও সরকারি সম্পদের সুরক্ষা’ দেবে।

আইআরজিসির বাইরে পৃথক কাঠামোয় পরিচালিত হয় সেনাবাহিনী। এই বাহিনীও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীন।

‘শহরের কেন্দ্রস্থল’ দখলের প্রস্তুতির আহ্বান পাহলভির

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া সর্বশেষ বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রেজা পাহলভি বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এখন আর শুধু রাস্তায় নামা নয়, শহরগুলোর কেন্দ্রস্থল দখল ও ধরে রাখার প্রস্তুতি নিতে হবে।’ তিনি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত, বিশেষ করে পরিবহন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের শ্রমিক ও কর্মচারীদের দেশব্যাপী ধর্মঘটে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আপাতত পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী নন। এতে ইঙ্গিত স্পষ্ট যে সংকট কোন দিকে যায়, তা দেখেই তিনি বিরোধী নেতৃত্বের বিষয়ে অবস্থান নেবেন।

এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে। শুক্রবার তিনি আরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা যদি গুলি চালাও, আমরাও গুলি চালাব।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি শুধু চাই, ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকুক। পরিস্থিতি এখন খুবই বিপজ্জনক।’

রাজপথে কিছু বিক্ষোভকারী অবশ্য পাহলভির পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন। ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোক’—এমন স্লোগানও শোনা গেছে। তবে অধিকাংশ স্লোগানে বর্তমান সরকারের শাসনের অবসান এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের দাবি তোলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরানের অর্থনীতি নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় দেশটির অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানে ট্রাম্পের ‘মাদুরো মডেল’ যে বিপদ ডেকে আনতে পারে

ইরানে ট্রাম্পের ‘মাদুরো মডেল’ যে বিপদ ডেকে আনতে পারে

​ভেনেজুয়েলায় মাদুরো-পর্বকে ইরানের ভবিষ্যৎ হিসেবে কল্পনা করা ভুল হিসাব হতে পারে। টাইম সাময়িকীর সানাম ভাকিল দেখিয়েছেন, বাইরের চাপ সব সময় শাসনব্যবস্থা ভাঙে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা ভিন্নরূপে টিকিয়ে রাখে। ইরানের ক্ষেত্রে এমন কৌশল দমন-পীড়ন বাড়াতে ও আন্দোলনকে দুর্বল করতে পারে। কোনো দেশে জনগণের সামনে স্পষ্ট রাজনৈতিক বিকল্প না থাকলে বিদেশি হস্তক্ষেপ পরিবর্তন নয়; বরং অনিশ্চয়তাই ডেকে আনে।


যখন খবর এল যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে; তখন ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের আরেক শত্রু (ইরান) সম্পর্কে একটি পরিচিত ধারণা দ্রুত দানা বাঁধতে শুরু করে। অনেকেই যুক্তি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কারাকাসে একজন ক্ষমতাসীন কর্তৃত্ববাদী নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারে, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিরও একই পরিণতি হতে পারে।

কিন্তু এ ধারণা গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ, এমনকি বিপজ্জনকও; বিশেষ করে সেই সব ইরানির জন্য, যাঁরা ‘অর্থবহ’ রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশা করেন।

ভেনেজুয়েলা নিয়ন্ত্রণ ও সেখানকার কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটানো নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার বাগাড়ম্বর করা সত্ত্বেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন। মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে এবং বিচারের মুখোমুখি করতে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে মাদুরোর দীর্ঘদিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর শাসনের প্রতি অনুগত দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ও সামরিক বাহিনীর বড় অংশের সমর্থন নিয়ে মাদুরোর অনুগত দেলসির এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকা প্রমাণ করে, রাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েনি এবং শাসকগোষ্ঠী এখনো তাদের কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে। এমনকি নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর মতো বিরোধী দলের নেতাদেরও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প যা চান, সেই প্রকৃত রাজনৈতিক রূপান্তরের সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ করে এটি।

‘মাদুরো পর্বের’ পুনরাবৃত্তি ইরানেও সম্ভব, এ বিশ্বাস একটি বিভ্রান্তিকর তুলনার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো, কৌশলগত পরিবেশ ও টিকে থাকার পদ্ধতিতে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। সামরিক পদক্ষেপ ইরানের নেতৃত্বকে ভেঙে দেবে, অথচ বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না—এ ধারণা বিশেষভাবে বিপজ্জনক।

ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে যা গড়ে উঠেছে, তা এমন এক ব্যবস্থা, যা নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, চাপ সহ্য করে ফেলেছে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজিয়েছে। তবে এটি ভেতরের ক্ষমতার ভিত্তি অক্ষুণ্ন রেখেছে। এই ফলাফল ট্রাম্পের কৌশল বা দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য সামনে আনে। সেটি হলো, তাঁর লক্ষ্য—কোনো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা গণতন্ত্রে উত্তরণ নয়; বরং এমন একটি নমনীয় ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য শাসনকাঠামো তৈরি, যা মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে কাজ করবে।

ট্রাম্পের পদক্ষেপের সম্ভাব্য ফলাফল বিবেচনায় নিলে ইরান-ভেনেজুয়েলার পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা মনে করেন যে ট্রাম্প ইসলামী প্রজাতন্ত্রটিকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করবেন; তাঁরা তাঁর অতীত রেকর্ড বুঝতে ভুল করছেন। মাদুরো পর্ব এটিই ইঙ্গিত দেয়, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার প্রকৃতপক্ষে ‘মুক্তি’ নয়, বরং ‘সুবিধা আদায়’ এবং শাসনব্যবস্থার ‘পতন’ নয়, বরং ‘বাধ্য বা অনুগত’ করা। ইরানের জনগণের জন্য এটি একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ। কারণ, একটি দুর্বল কিন্তু টিকে থাকা কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র প্রায়ই আরও বেশি সহিংস ও কম জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে।

ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে যা গড়ে উঠেছে, তা হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যা নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, চাপ সয়ে ফেলেছে এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজিয়েছে। তবে ভেতরের ক্ষমতার ভিত্তি অক্ষুণ্ন রেখেছে। এই ফলাফল ট্রাম্পের কৌশল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য সামনে আনে। সেটি হলো, তাঁর লক্ষ্য, কোনো শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা গণতন্ত্রে উত্তরণ নয়, বরং এমন একটি নমনীয় ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য শাসনকাঠামো তৈরি করা, যা মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে কাজ করবে।

‘মাদুরো-পর্বের’ পুনরাবৃত্তি ইরানেও সম্ভব, এ বিশ্বাস একটি বিভ্রান্তিকর তুলনার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো, কৌশলগত পরিবেশ ও টিকে থাকার পদ্ধতিতে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। সামরিক পদক্ষেপ ইরানের নেতৃত্বকে ভেঙে দেবে, অথচ বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না—এ ধারণা বিশেষভাবে বিপজ্জনক। বিশেষ করে তা এমন এক সময়, যখন ইরানের বহু শহর ও জনপদে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে এবং দেশটি শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে)
ফাইল ছবি: রয়টার্স

একই সঙ্গে মাদুরো-পর্ব ইরানের ক্ষমতাসীন অভিজাত মহলেও গভীরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনৈতিক ক্লান্তি, ক্রমহ্রাসমান বৈধতা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এ শাসকগোষ্ঠীর কাছে ভেনেজুয়েলা টিকে থাকার একটি উদাহরণ। বার্তাটি স্পষ্ট—চরম চাপেও কোনো শাসন টিকে থাকতে পারে; যদি তারা অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখে, কঠোরভাবে ভিন্নমত দমন করে ও বাইরের শক্তিগুলোর কাছে সামান্য নমনীয়তা দেখিয়ে চাপ কিছুটা কমাতে পারে। এ শিক্ষা যদি তেহরান গ্রহণ করে; তবে একদিকে তারা ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কৌশলগত সমঝোতার পথ খুঁজবে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে আরও কঠোর দমননীতি গ্রহণ করতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান প্রজাতন্ত্রের শাসন তাঁরা আর মানতে রাজি নন। কিন্তু এ শাসনের পতনের পর কোন ধরনের রাষ্ট্র, সরকার বা রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে; সে বিষয়ে তাঁরা এখনো কোনো ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত ধারণা দিতে পারেননি। রাজনৈতিক কাঠামো, শাসনপ্রণালি ও সামাজিক সমঝোতা নিয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে আন্দোলন সহজেই দেশের ভেতরের ক্ষমতাবান গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির হাতে ব্যবহার হয়ে যেতে পারে।

ইরানি সমাজের জন্য এ পথচলা অত্যন্ত অস্বস্তি-উদ্বেগের। জনগণের বড় একটি অংশ এখন আর শুধু সংস্কারের দাবি করছে না। তারা ক্ষমতাসীনদেরই প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করছে। কিন্তু স্পষ্ট কোনো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিকল্প ছাড়া বাইরের চাপ তাদের ক্ষমতাশালী করবে না; বরং আরও সীমাবদ্ধ করবে। এ কারণে বর্তমান মুহূর্ত ইরানিদের জন্য জরুরি হিসাব-নিকাশের সময়; যদিও তা কঠিন।

ইরান ‘বড় বিপদে’ আছে, হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে: ট্রাম্প

বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান প্রজাতন্ত্রের শাসন তাঁরা আর মানতে রাজি নন। কিন্তু এই শাসনের পতনের পর কোনো ধরনের রাষ্ট্র, সরকার বা রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে; সে বিষয়ে তাঁরা এখনো কোনো ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত ধারণা দিতে পারেননি। রাজনৈতিক কাঠামো, শাসনপ্রণালি ও সামাজিক সমঝোতা নিয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে আন্দোলন সহজেই দেশের ভেতরের ক্ষমতাবান গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির হাতে ব্যবহার হয়ে যেতে পারে। অথচ এসব শক্তির কেউ প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের ব্যাপারে আগ্রহী নয়।

তেহরানের বাজারে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়েন
তেহরানের বাজারে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়েন
তেহরানের বাজারে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়েন
ফাইল ছবি: এএফপি

ইতিহাসে দেখা যায়, কখনো কখনো বাইরের চাপ কোনো ব্যবস্থার পতনের সঙ্গে মিলে গেছে, যেমন সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষেত্রে। তবে অধিকাংশ সময়ই এ চাপ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে উচ্ছেদ না করে নতুনভাবে গড়ে তোলে। যখন কোনো একটি সরকার খুব চাপে পড়ে; তখন সে সমস্যার সমাধান না করে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করে। এ জন্য দমন-পীড়ন বাড়ায়, জনগণ থেকে দূরে সরে যায় এবং কখনো কখনো দেশের বাইরে বিপজ্জনক কাজেও জড়িয়ে পড়ে। ‘ভেনেজুয়েলার ছক’ ইরানের ওপর প্রয়োগের চেষ্টা বড় ধরনের ভুল হিসাবের ঝুঁকি তৈরি করবে এবং তা এমন এক সময়ে আঞ্চলিক ভারসাম্যকে আরও নড়বড়ে করে তুলবে, যখন ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা আবার বিপজ্জনক মাত্রার দিকে এগোচ্ছে।


বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।

  • গোপনীয়তার নীতি
  • শর্তাবলি
  • মন্তব্য প্রকাশের নীতিমালা
  • বিজ্ঞাপন
  • যোগাযোগ
  • ছুটির তালিকা
  • দিবস

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম রনি

  • ফোন : 01700000000
  • ফ্যাক্স : 01700000000
  • ই-মেইল: info@newscellbd.com
  • বিজ্ঞাপন বিভাগ: ad@newscellbd.com

logo

সোশ্যাল মিডিয়া

logologologologologo
logo

নিউজলেটার

logo

মোবাইল অ্যাপস

অ্যান্ড্রয়েড

আইফোন

স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।