
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (রাড্ডা ক্লিনিক) হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে।
আজ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ঘটনাটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ ইতিমধ্যে ৯ জনকে গ্রেপ্তারসহ বেশ কিছু মালামাল ও আলামত উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলমত-নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, কারণ অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই— অপরাধী সে অপরাধীই।
গতকাল রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য ওই কার্যালয়ে একত্র হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৮০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়, যাদের বেশির ভাগকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও অনুসন্ধানে নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, কাউকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয়নি।
ককটেল বিস্ফোরণ ও রাজপথের আন্দোলন নিয়ে এক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’ আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে বিষয়টির মূল্যায়নের দায়িত্ব সচেতন জনগণের ওপর ছেড়ে দেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের রুটিন ও প্রশাসনিক বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে অবহেলা বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা থাকলে শুধু বদলিই শেষ পদক্ষেপ নয়। রাষ্ট্রদ্রোহ বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলাতেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে কোনো অপরাধ বরদাশত করা হবে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ক্যান্টনমেন্টের মানিকদী এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে নিউগিনি প্রপার্টিজ নামের একটি বিল্ডার্স গোষ্ঠী এবং এক অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। রাতের আঁধারে একপক্ষ জমি দখলে গেলে সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্টুডিও ভাঙচুরের শিকার হয়। ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং গুলির খোসাসহ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।
এই ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে অভিযুক্ত করার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুক্তভোগী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া ঢালাও অভিযোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ভুক্তভোগী লিখিত মামলা করলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে পুরো বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত সম্পন্ন করবে বলে জানান তিনি।

বাসায় কেউ ছিল না রাতে। সেই ফাঁকা বাসাকেই টার্গেট বানিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে সটকে পড়ে চোর। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে বাসার সিসিটিভি ক্যামেরায়। রাজধানীর মিরপুর অরিজিন্যাল-১০ এলাকার একটি বাসায় ঘটেছে এই চুরির ঘটনা।
বাসার মালিক জানান, ওই সময় তিনি জরুরি কাজে বাসার বাইরে ছিলেন। বাসা যে ফাঁকা, তা আগে থেকেই নজরদারি করে নিশ্চিত হয়েছিল দুর্বৃত্ত। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (১৯ সেপ্টেম্বর) বাসায় ঢুকে ৯ ভরি স্বর্ণের গহনা, রূপার অলঙ্কার ও নগদ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে যায় চোর।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টা ১৭ মিনিটের দিকে মূল গেটের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে একজন ব্যক্তি। অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে এগিয়ে গিয়ে মূল ভবনের কেচিগেট সংলগ্ন ছোট গেটের তালা ভেঙে ফেলে সে। এরপর ভেতরে ঢুকে অল্প সময়ের মধ্যেই খুলে ফেলে বাসার মূল দরজার তালা। ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে দ্রুতই এলাকা ত্যাগ করে চোর।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার পর তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত আটটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় এক কিশোরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফোনটি উদ্ধার করে জেলা পুলিশের একটি দল। ওই কিশোরকে অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে আটক করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানাতে রোববার দুপুর ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
আরও পড়ুন -
আপডেট : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
জেলা পুলিশের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কুমিল্লায় কর্মরত এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও আইফোন উদ্ধারের বিষয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়া কিশোরের বাড়ি থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আইফোনটি উদ্ধার করেছেন। অপ্রতিম তার মায়ের এই আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও আলামতে অপ্রতিমকে ওই আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন বিষয় অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।
তবে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান শনিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পুরো ঘটনার বিস্তারিত রোববার দুপুর ১২টার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরব। সেই পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। ওই কিশোরের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি ছিল এবং তার মাথায় ক্যাপ ছিল। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তার গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজেও অপ্রতিমকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে ওই কিশোরকে।
পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ওই কিশোরের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ওই কিশোরের বাড়িতেও যায় লাশ উদ্ধারের আগে। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে শনিবার দুপুরে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ি এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে ডিবি পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত আটটার দিকে সালমানপুর এলাকায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

যাত্রাপথে রাত গভীর হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলেন এক দম্পতি। সেখানে কর্মরত দুই আনসার সদস্য স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
পরে রাতেই অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলার ফলদা পূর্বপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২৯) এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আওতিয়াপাড়া গ্রামের আবু সাঈদ (২৫)। মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে তাঁদের নিয়োগ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী (১৬) বর্তমানে একই হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাবার বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও প্রায় সাত মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এক তরুণের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে এই দম্পতি নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন।
পুলিশ, ভুক্তভোগী এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে একটি সুতা তৈরির কারখানায় কাজ করেন ওই কিশোরীর স্বামী। তিনি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে সুতা পরিবহন করেন। গতকাল বেলা তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বামীর ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নানাবাড়িতে বেড়াতে বের হয় ওই কিশোরী। রাত ১২টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালের অদূরে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলে ভ্যানের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। পরে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন।
সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ নিরাপত্তার কথা বলে হাসপাতালের আটতলার নতুন ভবনের নিচতলায় কিশোরী ও তাঁর স্বামীকে নিয়ে যান। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বামীকে নিচে আটকে রেখে ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন দুই আনসার সদস্য। পরে নিচতলায় নেমে কিশোরী তাঁর স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজনদের সহযোগিতায় দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে ওই দুই আনসার সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
আজ সোমবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে ওই কিশোরীকে গাইনি ওয়ার্ডের এক শয্যায় বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় কথা হলে সে প্রথম আলোকে বলে, ‘দুই আনসার সদস্য আমাকে পাশবিক নির্যাতন করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বামী বলেন, ‘ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে দুই আনসার সদস্য ধর্ষণ করেছে। তারা আনসারের পোশাক পরিহিত ছিল।’
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পরেই হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যদের ডেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে নিয়ে গেছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় আজ দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

হুমকি, ভয় দেখানোর অভিযোগে করা মামলার শুনানিতে আদালতকে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেছেন, মামলার বাদীকে তিনি কখনো দেখেননি, চেনেন না। তাঁকে হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
আজ সোমবার সকালে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকারের আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। হুমকি, ভয় দেখানোর অভিযোগে করা মামলা থেকে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তাঁর ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতি দেন আদালত।
সকাল ১০টার দিকে আদালতে আসেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরী। বেলা ১১টার দিকে তাঁরা এজলাসে ওঠেন।
মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার নীল রঙের জবাব দাখিলের কাগজ বিচারকের সামনে দেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এ মামলার বাদীর ঠিকানা ভুয়া, মোবাইল নম্বরও ১২ ডিজিটের। আইনজীবী আরও বলেন, তিনি একজন অভিনেত্রী। এই বাদীকে চেনেন না, তাঁর সঙ্গে কোনো পরিচয় নাই। অতএব হুমকি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করার কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে। এ জন্য এই মামলা করা হয়েছে।
বাদী আমিরুলের পক্ষে আইনজীবী রায়হান গাজী বলেন, আসামিরা ধার্য তারিখে না থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা হয়। আমরা জবাব পাইনি। এই আসামি মামলার বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় তাঁকে হুমকি দিয়েছেন।
এ সময় বিচারক বাদীকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনাকে কে হুমকি দিয়েছে?’ বাদী বলেন, ‘ওনারা হাতিরঝিল এলাকায় আমাকে হুমকি দিয়েছে।’ তখন বিচারক বলেন, ‘মেহজাবিন হুমকি দিয়েছে?’ বাদী বলেন, ‘না, তাঁর ভাই হুমকি দিয়েছে। বিভিন্ন অপরিচিত লোক দিয়ে তিনি হুমকি দিয়েছেন।’
বিচারক জানতে চাইলে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তাঁকে (বাদী) কখনোই দেখিনি। তাঁকে চিনি না। তাঁর সঙ্গে কোনো দিন কথাও হয়নি। বাদী কোনোভাবেই প্রমাণ দিতে পারেননি। বিকাশ-নগদের মাধ্যমে যে ২৭ লাখ টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এটার বিষয়ে কোনো প্রমাণও নেই।’
এ সময় বিচারক বলেন, এই মামলায় বিষয় ২৭ লাখ টাকা না। এটা হুমকি দেওয়ার মামলা। এখানে বিচার্য বিষয় হচ্ছে আপনারা তাঁকে হুমকি দিয়েছেন কি না?
তখন মেহজাবীন চৌধুরী ও তাঁর ভাই মাথা নেড়ে বলেন, না।
বিচারক বলেন, আর ভবিষ্যতে হুমকি দেবেন কি না? তখন মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, হুমকি দেওয়ার কোনো প্রশ্নেই আসে না।
পরে বিচারক এই মামলা থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেন।
বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।
স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।