
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে বার্ষিক আয়, মোট সম্পদ, আয়কর, দেনা—সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছেন মোহাম্মদ আলী আসগার (লবী)। বিপরীতে মামলার সংখ্যায় সবচেয়ে চাপে রয়েছেন এস কে আজিজুল বারী হেলাল।
বিএনপির প্রার্থী যাঁরা
খুলনা-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান প্রার্থী হয়েছেন। খুলনা-২ আসনে দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনে জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে দলের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনে বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবী এবং খুলনা-৬ আসনে জেলার সাবেক সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী প্রার্থী হয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে পাঁচজন ব্যবসায়ী, একজন রাজনৈতিক কর্মী। শিক্ষাগত যোগ্যতায় একজন স্নাতকোত্তর, চারজন স্নাতক বা সমমানের, একজন উচ্চমাধ্যমিক।
কোটি টাকা বার্ষিক আয় আলি আসগারের
বার্ষিক আয়ের হিসাবে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছেন মোহাম্মদ আলি আসগার। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আয়কর রিটার্নে তিনি আয় দেখিয়েছেন ২৫ কোটি ৪০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর পরের অবস্থানে রয়েছেন আমীর এজাজ খান। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৪৮ লাখ ৭ হাজার টাকা, যার বড় অংশই আসে ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে। এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর বার্ষিক আয় ৪৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। রকিবুল ইসলাম বকুলের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
তুলনামূলকভাবে কম আয় দেখিয়েছেন আজিজুল বারী হেলাল। তাঁর বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা, যার বড় অংশ টেলিভিশন টক শো ও অনলাইন সম্মানী থেকে আসে। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বার্ষিক আয় সবচেয়ে কম, ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সম্পদের শীর্ষে লবী, তলানিতে হেলাল
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যে সবচেয়ে এগিয়ে আলী আসগার লবী। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, যা অন্য পাঁচ প্রার্থীর মোট সম্পদের চেয়েও সাত গুণের বেশি। এরপরের অবস্থানে রয়েছেন মনিরুল হাসান বাপ্পী, ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আমীর এজাজ খানের সম্পদ প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সম্পদ ১ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের সম্পদ প্রায় ৯০ লাখ টাকা। সবচেয়ে কম সম্পদ দেখিয়েছেন আজিজুল বারী হেলাল, ৫৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
কারও হাতে কোটি টাকা, কারও হাতে হাজার
নগদ অর্থ ও ব্যাংকে জমার ক্ষেত্রেও বড় ব্যবধান দেখা গেছে। আলী আসগারের নগদ ও ব্যাংকে জমা মিলিয়ে রয়েছে ৮ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি। এর বাইরে তাঁর ৪০ কোটির বেশি টাকা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ করা।
মনিরুল হাসানের নগদ ৬১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা ২০ লাখ ৫২ হাজার টাকা। আমীর এজাজ খানের নগদ রয়েছে ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা ২৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমার পাশাপাশি আছে ৮৫ লাখ টাকার এফডিআর।
আজিজুল বারী হেলালের হাতে নগদ ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার এফডিআর রয়েছে। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নগদ রয়েছে ১৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। রকিবুল ইসলাম বকুলের নগদ মাত্র ৩৩ হাজার ৮২৮ টাকা, ব্যাংকে আছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
ঋণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি দায় রয়েছে আলী আসগারের, ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। মনিরুল হাসান বাপ্পীর ব্যাংকঋণ ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং আমীর এজাজ খানের ঋণ ৪৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ও রকিবুল ইসলাম বকুলের দেনা ২০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও আজিজুল বারী হেলালের কোনো ব্যাংকঋণ নেই।
আয়করের দিক থেকেও শীর্ষে আলী আসগার। তিনি সর্বশেষ অর্থবছরে ৩ কোটি ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন। মনিরুল হাসান দিয়েছেন ৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। রকিবুল ইসলাম ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা, আমীর এজাজ খান ১ লাখ ৫৭ হাজার ও আজিজুল বারী ২৪ হাজার টাকা কর দিয়েছেন। নজরুল ইসলাম ন্যূনতম করদাতা।
এখনো মামলার ভারে আজিজুল বারী
মামলার সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন আজিজুল বারী হেলাল। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৭০টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১১টি বিচারাধীন। মনিরুল হাসান বাপ্পীর বিরুদ্ধে থাকা ৩২টি মামলার ৮টি বিচারাধীন এবং আমীর এজাজ খানের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলার ৪টি এখনো চলমান। রকিবুল ইসলামের ১২টি, নজরুল ইসলামের ১১টি ও আলী আসগারের ৬টি মামলাই নিষ্পত্তি ও স্থগিত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। আজ রোববার দুপুরে তাঁর আপিল মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। এতে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়।
শুনানি শেষে মাহমুদুর রহমান মান্নার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এর আগে বাছাইয়ে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইসিতে আপিল করেন।
পরে নির্বাচন ভবনে মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, এর আগেও তিনি বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন। তাঁর বিরোধিতা করতে গিয়ে যে ‘মবক্রেসি’ করা হয়েছে, তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। তিনি মনে করেন, জেলা প্রশাসক বিচলিত হয়ে মনে করেছেন পরিস্থিতি সামাল দিতে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানোই ভালো। না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো কারণ ছিল না।
নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডাকসুর দুবারের ভিপি, আওয়ামী লীগের একসময়ের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এর আগে একাধিকবার প্রার্থী হলেও কখনো তাঁর সংসদে যাওয়া হয়নি। এবার বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন তিনি। মিত্রদলের নেতা হিসেবে বগুড়া-২ আসনটি তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দাউদকান্দি–তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ আসন ও হোমনা–মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসন আগের সীমানায় পুনর্বহাল করতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও এক প্রার্থীর করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ রোববার এ আদেশ দেন। লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। ঘোষিত রায়ে দাউদকান্দি–তিতাস উপজেলার পরিবর্তে দাউদকান্দি–মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ সংসদীয় আসন এবং হোমনা–মেঘনা উপজেলার পরিবর্তে হোমনা–তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ–সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের অংশবিশেষ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আগের মতো দাউদকান্দি–তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ আসন ও হোমনা–মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসন পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসিকে গেজেট প্রকাশ করতে বলা হয়।
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে ইসি ও কুমিল্লা–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করেন। আবেদন দুটি শুনানির জন্য চেম্বার আদালতে আজকের কার্যতালিকায় ১ ও ২ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী শুনানিতে ছিলেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আবদুল্লাহ আল মামুন।
এর আগে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কুমিল্লা-১ আসন ছিল দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা নিয়ে। আর হোমনা–মেঘনা উপজেলা নিয়ে ছিল কুমিল্লা-২ আসন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। তাতে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ আসন এবং হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
গেজেটের এ–সংক্রান্ত অংশবিশেষের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহি উদ্দিনসহ ছয় ব্যক্তি গত বছর রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। এ মামলায় বিবাদী হিসেবে যুক্ত হন কুমিল্লা–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন ও মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা এম এ মিজানুর নামের এক ব্যক্তি। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৮ জানুয়ারি রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন। এতে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ–সংক্রান্ত গেজেট আসন দুটির ক্ষেত্রে বহাল থাকছে। এই সীমানা অনুসারে আসন দুটিতে নির্বাচন হতে আইনি বাধা নেই।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁরা আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাহিদ ইসলাম। পরে ফেসবুক পোস্টে এই সাক্ষাতের কথা ও ছবি প্রকাশ করেন তিনি। এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায়ও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এনসিপি। সমঝোতায় এনসিপি ৩০ আসনে ছাড় পেতে পারে, এমন আলোচনা চলার মধ্যে আজ এই সাক্ষাৎ।
অবশ্য এনসিপির একটি সূত্র জানায়, জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে আসন সমঝোতা নয়; বরং সামগ্রিক রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেছেন নাহিদ ইসলাম। আসন সমঝোতার আলোচনায় জামায়াতের দিক থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। আজ আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনের একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়াসহ সামগ্রিক নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা হয় নাহিদের।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। গণভোটে ‘না’ ভোট জয়ী হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল জুলাই সনদ মেনে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না। আর হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে জুলাই সনদ মেনে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে নির্বাচিত সরকার বাধ্য থাকবে।
এ রকম অবস্থায় সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন সরকার যেখানে গণভোটের আয়োজক, সেখানে তারা একটি পক্ষ নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারে কি না।
আজ রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন। এই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সরকার যখন হ্যাঁ-না ভোটের (গণভোট) আয়োজন করছে, তখন সরকারই হ্যাঁ ভোটের পক্ষের প্রচারণা চালাবে, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন কি?
এর জবাবে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘এটা নিয়ে কেউ কেউ দ্বিমত করতে পারেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, সরকার এখানে হ্যাঁ ভোটের জন্য বলবে, জনগণকে বলবে।’
প্রেস সচিব বলেন, তাঁদের পেজগুলোতে (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ) ইতিমধ্যে বলছেন (হ্যাঁ ভোটের পক্ষে)। সরকারের উপদেষ্টারাও বলছেন। এটা বলার মূল কারণ হচ্ছে এই সরকার হচ্ছে সংস্কারের সরকার। এই সরকার ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে এই সংস্কারকে একটি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের চেষ্টা করেছে। এটাই এখন গণভোটে দেওয়া হচ্ছে।
প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা জনগণকে বলছি, আপনারা যদি আর অপশাসন না চান, আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আর ফেরত না চান, অবশ্যই তাহলে আপনারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। এখন জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু আমাদের যা দায়িত্ব সেটা আমরা করছি। সেটা এই সরকার করছে।’
বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।
স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।