logo
menu
প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে?

প্রসববেদনার সময় কি নামাজ আদায় করতে হবে?

অনেক গর্ভবতী নারী ও তাঁদের স্বজনরা এক বড় ধর্মীয় দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন—এই তীব্র কষ্টের মধ্যেও কি নামাজ আদায় করতে হবে? নাকি প্রসবযন্ত্রণা শুরু হওয়া মাত্রই নামাজের বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যায়? রক্তক্ষরণ এবং গর্ভস্থ পানির থলি ফেটে যাওয়ার সঙ্গে নামাজের সম্পর্কের ফিকহি বিধানই বা কী?

নামাজ হলো এমন এক মৌলিক ইবাদত, যা মানুষের চেতনা ও বিবেকবুদ্ধি থাকা পর্যন্ত কখনোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রহিত হয় না; বরং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাভেদে নামাজ আদায়ের পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ শিথিলতা (রুখসত) দেওয়া হয়েছে।

অসুস্থতার কষ্টের মধ্যেও ইসলাম নামাজ ছাড়ার অনুমতি দেয়নি। এক্ষেত্রে বসে, শুয়ে, এমনকি ইশারায় নামাজ পড়ার সুযোগ তো ইসলামে আছেই।

চেতনা ও প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ওপর নামাজ ফরজ হওয়া এবং তা বহাল থাকার প্রধান শর্ত হলো তিনি হায়েজ (ঋতুস্রাব) এবং নেফাস (প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ) থেকে পবিত্র থাকবেন। এই দুটি বিশেষ অবস্থা ছাড়া সুস্থ বা অসুস্থ যেকোনো অবস্থাতেই নামাজ মাফ হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসববেদনা শুরু হওয়া মাত্রই নামাজ বন্ধ হয়ে যায় না। যদি শুধু তলপেটে বা কোমরে সংকোচন ও তীব্র ব্যথা থাকে কিন্তু কোনো রক্ত দেখা না দেয়, তবে একজন সাধারণ অসুস্থ মানুষ যেভাবে নিজের কষ্ট সত্ত্বেও নামাজ আদায় করেন, প্রসূতি মাকেও তাঁর শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ পড়ে নিতে হবে।


কারণ অসুস্থতার কষ্টের মধ্যেও ইসলাম নামাজ ছাড়ার অনুমতি দেয়নি, বরং সহজ উপায়ে তা আদায়ের সুযোগ করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে বসে, শুয়ে, এমনকি ইশারায় নামাজ পড়ার সুযোগ তো ইসলামে আছেই।

প্রসববেদনার সঙ্গে রক্তক্ষরণ

প্রসববেদনার সঙ্গে যদি রক্ত নির্গত হতে শুরু করে, তবে সেই রক্ত কি ‘নেফাস’ হিসেবে গণ্য হবে নাকি ‘ইস্তিহাজা’ (অনিয়মিত বা রোগজনিত রক্তক্ষরণ)?

হাম্বলি মাজহাব অনুসারে সন্তান প্রসবের এক বা দুই দিন (কিংবা সর্বোচ্চ তিন দিন) পূর্বে যদি তীব্র প্রসববেদনার সঙ্গে রক্ত বের হতে দেখা যায়, তবে সেই রক্তকে ইসলামের দৃষ্টিতে ‘নেফাস’-এর রক্ত বলেই গণ্য করা হবে। অতএব, রক্ত দেখা যাওয়ার পর থেকে তিনি নামাজ ও রোজা থেকে পূর্ণ অব্যাহতি পাবেন। (ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনি,১/৩৪৭–৩৪৮, দারু আলমিল কুতুব, রিয়াদ, ১৯৯৭ খ্রি.)

তবে যদি কোনো প্রসববেদনা ছাড়া শুধু রক্ত আসে, তবে তা নেফাস নয়, বরং অসুস্থতাজনিত নষ্ট রক্ত হিসেবে গণ্য হবে।

তবে যদি কোনো প্রসববেদনা ছাড়া শুধু রক্ত আসে, তবে তা নেফাস নয়, বরং অসুস্থতাজনিত নষ্ট রক্ত হিসেবে গণ্য হবে।

হানাফি ও শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী, বাচ্চার অধিকাংশ দেহ বা সম্পূর্ণ শরীর মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বে যে রক্ত নির্গত হয়, তা কখনোই ‘নেফাস’ নয়; বরং তা ‘ইস্তিহাজা’ বা নষ্ট রক্ত (দম ফাসিদ)।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো, নেফাস নির্ধারিত হয় সন্তান প্রসবের ঠিক পরমুহূর্ত থেকে। তাই এর আগে তিনি প্রতি ওয়াক্তের জন্য ওজু করে অপারগ (মা’জুর) ব্যক্তির মতো নামাজ আদায় করবেন।” (ইমাম আল-কাসানি, বাদায়েউস সানায়ে ফি তারতিবিশ শারায়ে, ১/৪১, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)

প্রসূতি মায়ের জন্য শিথিলতা

যদি কোনো রক্ত দেখা না যায় এবং শুধু প্রসবের ব্যথা থাকে, তবে তিনি কীভাবে নামাজ আদায় করবেন? ইসলাম প্রসূতি মাকে সাধারণ সুস্থ মানুষের মতো কষ্ট করতে বাধ্য করেনি। 


১. বসে, শুয়ে বা ইশারায় নামাজ: নবীজি অসুস্থ ব্যক্তির নামাজের নিয়ম শিখিয়ে বলেছেন, “দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করো; যদি তা করতে সক্ষম না হও তবে বসে নামাজ পড়ো; আর যদি তাও না পারো, তবে একপাশে কাত হয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১১৭)

২. তায়াম্মুমের অবকাশ: হাসপাতালের বেডে স্যালাইনের সুঁই বা ড্রিপ লাগানো থাকলে কিংবা নড়াচড়া করতে তীব্র কষ্ট হলে পানি ব্যবহারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী। (সুরা মায়িদাহ, আয়াত: ৬)

একটি মাটির ঢিলা, ইট বা ধুলাযুক্ত টাইলসের ওপর হাত স্পর্শ করে অনায়াসেই তায়াম্মুম করে নেওয়াই যথেষ্ট।

জ্ঞান ফিরে আসার পর যদি দেখা যায় সন্তান জন্ম নিয়ে নিয়েছে, তবে তখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নেফাস’ অবস্থায় প্রবেশ করেছেন।

জ্ঞান হারিয়ে ফেললে করণীয়

প্রসবযন্ত্রণা যখন চরম সীমায় পৌঁছায় অথবা অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান সেকশন) জন্য যখন রোগীকে অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে ফেলা হয়, তখন রোগীর ওপর থেকে ইসলামের সমস্ত দায়িত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।

নবীজি বলেছেন, “তিন শ্রেণির ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে... এবং অজ্ঞান ব্যক্তির ওপর থেকে যতক্ষণ না তার জ্ঞান ফিরে আসে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৪০১)

জ্ঞান ফিরে আসার পর যদি দেখা যায় সন্তান জন্ম নিয়ে নিয়েছে, তবে তখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নেফাস’ অবস্থায় প্রবেশ করেছেন। অতএব অজ্ঞানকালীন বা অস্ত্রোপচারকালীন ছুটে যাওয়া ওই নামাজগুলোর কোনো কাজাও তাঁর ওপর ওয়াজিব হবে না।

মক্কা মদিনার ডায়েরি–২

মক্কা মদিনার ডায়েরি–২

কাফেলার সবাই মসজিদে নববিতে যাওয়ার জন্য বের হলাম। হোটেল থেকে মসজিদে নববি সামান্য পথ, কিন্তু আমার আম্মার আর্থ্রাইটিস সমস্যার কারণে হাঁটতে কষ্ট হয়, তাই আলাদা হয়ে ট্যাক্সিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। বাইরে বেশ গরম, মরুর লু হাওয়া চোখেমুখে ঝাপটা মারল। এখন অক্টোবর মাস, গরম কমে আসার কথা, আর কমে আসার উদাহরণ যদি এই হয়, তবে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত গরমের তাণ্ডব চিন্তা করে ভয় হলো।

ট্যাক্সি ছাড়া সাধারণ গাড়িও ভাড়া যায়, এখানে মিটারে চলে না। রাস্তায় প্রাইভেট কার মসজিদে নববিতে পৌঁছে দিতে ২০ রিয়াল ভাড়া হাঁকল, দরদাম করে ১০ রিয়ালে রফা। আমরা রওনা হলাম রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর মসজিদের পথে। প্রশস্ত পথ, সুরম্য অট্টালিকা, রাস্তার বিলাসবহুল গাড়ির ভিড় সৌদি আরবের স্বাস্থ্যকর অর্থনীতির জানান দেয়। পাকিস্তানি চালক মসজিদে নববির ৩৬৫ নম্বর গেটের কিছু আগেই আমাদের নামিয়ে দিল, এর চেয়ে সামনে গেলে পার্কিং করা যায় না; পুলিশ ধরবে! বাকিটা পথ হেঁটে আমরা পৌঁছে গেলাম। আসরের নামজের এখনো আধা ঘণ্টা দেরি, হাজারো মুসল্লি নারী–পুরুষ নির্বিশেষে দলে দলে মসজিদে প্রবেশ করছেন। তীব্র গরমের ঝাপটায় চোখমুখ জ্বালা করছে, বিশাল আকৃতির ছাতাগুলো ডানা মেলে রোদ থেকে ছায়া বিলোচ্ছে, বিশাল ফ্যান পানি মিশ্রিত বাতাস দিয়ে উষ্ণ আবহাওয়া শীতল করার চেষ্টায় ঘুরে চলেছে।


‎নারী–পুরুষ নামাজের বন্দোবস্ত আলাদা, প্রতিটি নামাজের ঘর নম্বর দিয়ে আলাদা করা আছে। নির্দিষ্ট নম্বরের ঘর হয় পুরুষ অথবা নারীদের জন্য নির্ধারিত। খুব সুন্দর ব্যবস্থা। খোলা অঙ্গনেও নারী ও পুরুষের আলাদা নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা আছে। পার্টিশন না থাকায় সবাই সবার নজরদারির মধ্যে থাকব। হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। প্রথম দিন ভেতরে প্রবেশ না করে বাইরের অঙ্গনে নামাজ আদায় করলাম। আমার আম্মার হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল, তাঁর জন্য হুইলচেয়ার প্রয়োজন। মসজিদে নববিতে ৩০১ আর ৩৩০ নম্বর গেটের পাশে পাসপোর্ট আর ভিসার রেকর্ড রেখে বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। আমি আর আমার স্ত্রী রুনা আসরের নামাজ শেষে ৩৩০ নম্বর গেটে গিয়ে একটি হুইলচেয়ার নিলাম। ওখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা দুজন তরুণী, বোরকা পরা নিকাবে মুখ ঢাকা। ইংরেজি বোঝেন ও বলতে পারেন। মদিনা এয়ারপোর্টেও স্বেচ্ছাসেবী আর অভিবাসন কর্মকর্তা হিসেবে অনেক নারীকে দেখলাম। তাঁরা যে শুধুই নারীদের সাহায্য করছেন তা কিন্তু নয়। নারী–পুরুষ সব যাত্রীকে সমানভাবে সেবা প্রদান করছেন। সৌদি আরবে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ‎হুইলচেয়ার প্রদানকারী নারী কর্মকর্তা এন্ট্রি শেষ করে আমাকে একটি রিসিট দিলেন।

‎আমি প্রশ্ন করলাম এই হুইলচেয়ার আমাকে কখন ফেরত দিতে হবে?

‎তিনি উত্তর দিলেন যাওয়ার আগে এই কাউন্টারে রিসিটসহ নিয়ে আসতে।

‎আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম যদি আমি এটি হারিয়ে ফেলি তখন কি জরিমানা দিতে হবে?

‎তিনি উত্তর দিলেন, এটি আপনার কাছে আমানত হিসেবে দেওয়া হচ্ছে, আপনি এটার যত্ন করবেন। আর যদি হারিয়ে ফেলেন তবে কোনো জরিমানা দিতে হবে না।

আরও পড়ুন
মক্কা মদিনার ডায়েরি–১
১০ জানুয়ারি ২০২৬
মক্কা মদিনার ডায়েরি–১
আমরা খুশিমনে হুইলচেয়ার নিয়ে রওনা হলাম। (এই আমানত আমি মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার আগে ফেরত দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার হোটেলের অনেককে হুইলচেয়ার মক্কায় নিয়ে যেতে দেখেছিলাম।) পরে মক্কায় যখন আবার হুইলচেয়ার জোগাড়ের জন্য মোতোয়াল্লিকে বলেছিলাম, তখন তিনি বললেন আপনারা হুইলচেয়ার কেন ফেরত দিতে গেলেন? এগুলো ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি থেকে দান! আশ্চর্য হলাম, ওয়াক্‌ফ বলে কি যথাস্থানে ফেরত দিতে হবে না? নাকি আমার বোঝার ভুল! আমার জানা মতে মক্কায়ও বিনা মূল্যে হুইলচেয়ার দেওয়া হয় এবং যথারীতি আমি ওইখানে তা সংগ্রহ করছিলাম।

বাবা আর আম্মাকে রেখে মসজিদ থেকে বের হলাম খাবার কিনতে। কিছুদূর হাঁটার পর বেশ কিছু শপিং মল। একটিতে ঢুকে ঘোরাঘুরি করছি, বাংলাদেশি ছেলে জোর করে দোকানে ঢুকাল। ওর অবস্থাটা এমন, কিনতে হবে না। বিভিন্ন রকম খেজুর খেয়ে দেখুন, খেজুর সম্পর্কে জানুন।
মসজিদুন নববিতে আজ প্রথম এলাম, প্রথম নামাজ আদায় করলাম এই সুখ আর আনন্দ কি ভাষায় প্রকাশ করা যায়। আমি আর আমার স্ত্রী, আমাদের মন যেন হালকা হয়ে আকাশে ভাসছে। কী এক আনন্দ মনে সুখ বুলিয়ে চলেছে। মাগরিবের নামাজের এখনো দুই ঘণ্টা বাকি। গেটের বাইরে সুন্দর চত্বর, শয়ে শয়ে কবুতর হেঁটে কিংবা উড়ে বেড়াচ্ছে। দেখতে ভীষণ সুন্দর আর পরিবেশটা খুবই মনোরম। মানুষ কবুতরগুলোর সঙ্গে খেলা করছে, ওদের খাবার দিচ্ছে। একটি বাচ্চা কবুতরগুলোর মাঝে দৌড়ে গেল, শত শত কবুতর উড়ে গেল। চারদিকে পাখা ঝাপটানির আওয়াজ। আশেপাশে অনেক শপিং মল, সারি সারি সোনার দোকান, খেজুরের দোকান, খাবার আর আতরের দোকান। আতরের দোকানের বিক্রয়কর্মী একটি নীল ছোট কাগজ দিয়ে গেল আমাদের, তাতে আতরের সুগন্ধ মাখা। সুগন্ধীটা মন পবিত্র করে দেওয়ার মতো। আরবের লোকেরা নাকি আতর সুগন্ধী খুব পছন্দ করে। না খেয়ে টাকা বাঁচিয়ে ওরা আতর কেনে! আমরাও আতর কিনব ঠিক করলাম, তবে এখন নয়। আসলে সুখী হতে হলে সব সময় মস্ত ঘটনার প্রয়োজন হয় না, জীবনের অতি সহজ অতি সাধারণ জিনিসগুলোর সংযোগই আমাদের প্রাণে সুখের উৎসব ডেকে আনে।

রিয়াজুল জান্নাহ-এর ভেতরের ছবি
রিয়াজুল জান্নাহ-এর ভেতরের ছবিছবি: লেখকের পাঠানো
ছোট একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর পেলাম। বিস্কুট, কেক, ফলমূল, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবই আছে। আমরা কিছু ফলমূল আর ক্রোসেন্ট কিনলাম মা–বাবা আর আমাদের জন্য। আমরা উদ্দেশ্যহীন আরও কিছু সময় ঘুরে বেড়ালাম, তারপর ফিরে গেলাম। মা–বাবার সঙ্গে কাফেলার আরও কয়েকজন একসঙ্গে বসে আছেন। সবার সঙ্গে খাবার ভাগ করে খেলাম, সবার চোখেমুখে আনন্দ, স্বস্তি আর প্রশান্তির ছায়া মসজিদে নববিতে আসতে পেরে।

৫. মদিনার দিনলিপি—রওজা মোবারক জিয়ারতের অভিজ্ঞতা

মাগরিবের নামাজের সময় আমাদের কাফেলার জয়নাল সাহেবকে পেয়ে গেলাম, ঠিক আমার আগের কাতারে বসে কোরআন পড়ছিলেন। আমি আর বাবা একসঙ্গে বসে আছি। নামাজ শেষ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর রওজায় সালাম জানানোর নিয়ত করলাম। সালাম জানাতে ১ নম্বর দরজা ‘বাব আস সালাম বা শান্তির দরজা’ দিয়ে রওজায় প্রবেশ করা লাগে। আমরা বসে আছি মসজিদের ৩২ নম্বর কক্ষের বাইরের চত্বরে। এদিক থেকে ১ নম্বর দরজায় মসজিদের ভেতর পথে হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। উদ্দেশ্য মসজিদের ভেতরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে যাওয়া। মসজিদের ২২ নম্বর কক্ষ হয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম। আমরা উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশ করেছি, যেতে হবে পশ্চিম দিকে। মসজিদের ভেতরের সৌন্দর্য অসাধারণ। প্রতিটি বস্তু-মার্বেল, টাইলস, ঝাড়বাতি, ক্যালিওগ্রাফি, নকশা, আলোকসজ্জা, কার্পেট, প্রতিটি স্তম্ভ পিলার, মেঝে থেকে ছাদ সবকিছুর সমন্বয় অপূর্বরূপে প্রস্ফুটিত। এত সুন্দর কারুকাজ আমি আর দেখিনি। মনে হলো কোনো রাজপ্রাসাদের ভেতর হাঁটছি। আসলেই তো রাজপ্রাসাদ! হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর মসজিদ এটি। ভেতরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আমরা দিকভ্রান্ত হলাম। মসজিদের পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশি একজনকে জিজ্ঞেস করে আবার চলা শুরু করলাম। কয়েকবার দিক পরিবর্তন করতে হলো! ভেতরের কক্ষগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে সংযুক্ত। এক কক্ষ দিয়ে পশ্চিমে যেতে যেতে দেখলাম পরের কক্ষটিতে চলাচল বন্ধ আছে! পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার জন্য বা অন্য কারণেও এভাবে কক্ষ ঘের দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবার জয়নাল সহেব দিক পরিদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন—আসুন আসুন ডানে গেলেই আমরা পেয়ে যাব! বাঁয়ে গিয়ে সোজা হাঁটলেই হবে বলে জয়নাল সাহেব এগিয়ে যান, শেষে পথ হারান। জয়নাল সাহেবের কাজকর্মে আমি খুব মজা পাচ্ছি! প্রসঙ্গে অপ্রসঙ্গে অসহায় হয়ে বলেন, স্ট্রোক করার পর সব ভুলে যাই! এভাবে পথ আরও গুলিয়ে যাই। ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত আমরা ৬ নম্বর দরজা হয়ে মসজিদ থেকে বাইরের চত্বরে বের হয়ে ১ নম্বর দরজায় ঢোকার জন্য লাইনে দাঁড়ালাম।

আরও পড়ুন
চীন দেশে বাউল বেশে: ইউ পর্ব
০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
চীন দেশে বাউল বেশে: ইউ পর্ব
এক নম্বর দরজাটি সবচেয়ে বড় ও সজ্জিত। এটি মূল ও প্রাচীন অংশের উত্তর পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এর জন্য দীর্ঘ লাইন দিতে হলো। হাজার হাজার মানুষ প্রতি ওয়াক্তে এখানে লাইন দিচ্ছে। যখনই গিয়েছি, একমুহূর্তের জন্য আমি এই লাইন খালি দেখিনি। রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর রওজা মোবারক জিয়ারত ও সালাম জানিয়ে চল্লিশ নম্বর দরজা দিয়ে বের হয়ে এলাম।

‘আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ,...’

‎ নারীরা এশার নামাজের পর বত্রিশ নম্বর গেট দিয়ে সালাম জানাতে আসতে পারেন, তবে তাঁরা রওজা মোবারকের সামনে আসার অনুমতি পান না। রওজা মোবারকের পেছনে ‘রিয়াজুল জান্নাহর’ বাইরে দিয়ে সালাম জানিয়ে তারা দুই নম্বর গেট দিয়ে বের হয়ে আসেন। আম্মা আর রুনা এশার নামাজের শেষে সেভাবেই জিয়ারত সম্পন্ন করে এলেন।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com
হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার শেষ করতে দশটা বেজে গেল। দীর্ঘ যাত্রায় আর দিনভর কাজকর্মে সবাই ক্লান্ত। দিবাগত রাত তিনটায় ঘড়ির অ্যালার্ম বেজে উঠলেই তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজের জন্য প্রস্তুত হয়ে বের হলাম। অন্ধকার আকাশ, চারপাশ সুনসান, কিন্তু অনেক মানুষ নীরবে একই রাস্তা ধরে হেঁটে চলেছে, আমিও সেই রাস্তায় শামিল হলাম। বিলাল (রা.) মসজিদ পার হতেই এই ভিড় যেন আরও বাড়তে থাকল, আর মসজিদুন নববির কাছে এসে তা রিতীমতো জনস্রোতে রূপ নিল। ভোর ৪টায় তাহাজ্জুদ নামাজের আজান হলো, মসজিদুন নববি তখন কানায় কানায় মুসল্লিতে পরিপূর্ণ। সবাই মশগুল নামাজে, কোরআন তেলাওয়াতে, ইবাদত বন্দেগিতে। চারদিকে তাকিয়ে মনে হলো কোনো চিরন্তন সকালবেলার একটি সুর এখানে ধরা পড়েছে। এখানে আটকে রয়েছে যে সুর, এ পৃথিবীতে তা আর নেই, নেই আমাদের জীবনে, নেই বাস্তবে আর স্বপ্নেও। পৃথিবী এগিয়ে চলে গেল, তার টান এখানে যেন লাগল না। এখানে রইল কোনো সুগন্ধী অতীত চিরকাল হয়ে। পুরো মদিনা যেন মুগ্ধ হয়ে রইল আমাদের সরকার রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর অলীক স্পর্শে।

আরও পড়ুন
চীন দেশে বাউল বেশে: শেনঝেন পর্ব
০৭ জানুয়ারি ২০২৬
২০০৭ সালে হংকং মাদাম তুসোর জাদুঘরে মোমের মডেলের পাশে পরচুলা পরে আমি ও কামরুল

৬. মদিনার দিনলিপি: আলোকিত শহরে জান্নাতের ছোঁয়া

ফজরের নামাজ শেষে হোটেলে পৌঁছে দেখি রুমের সামনে নাশতা রেখে দেওয়া আছে। ফ্রেশ হয়ে নাশতা খেয়ে একটু ঘুমানোর আয়োজন করলাম। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙা চোখে খবরের কাগজ খুলতে ভালো লাগে। ভালো লাগে ঠান্ডা পানিতে গোসল দিতে, চেনা ড্রেসিং টেবিলে চুল আঁচড়াতে, ভালো লাগে ঠিক সময়ে খাওয়া-শোয়া, ভালো লাগে চায়ের সঙ্গে ডুবিয়ে তেলের পরটা বা বিস্কুট খাওয়া। এই ভালো লাগাটা অনেক সময় ভ্রমণে বাদ দিতে হয়। এটা সৌভাগ্য যে খুব বেশি ছাড় আমাদের দিতে হয়নি। চায়ের কেটলি আছে, আছে চা–পাতা, চিনি, দুধ, বিস্কুট। সবকিছু সঙ্গে আনা। ঘুম ভাঙে কেটলিতে চা ফোটার আওয়াজ আর চায়ের সুভাসে। আম্মা আর রুনার জন্য বাড়তি পেরেশানি, বেড়াতে এসেও চা বানাও, কাপ ধৌত করো। আমার আর বাবার জন্য বাড়তি আনন্দ। বাবা তো পারলে কাফেলার সবাইকে ডেকে চা খাওয়ান। চেনা অভ্যাসের গণ্ডি পার হতে না চাওয়াটা আমাদের ধর্ম। জীবনে বৈচিত্র্যের রস জোগান দিতে চাইলে কিছু ছাড় দিতে হয়। কিছুটা ভালো না-লাগার জড়তার পরেও আমরা খুশি ছিলাম বর্তমান স্বাভাবিকতায়।

বেশ একটা কাণ্ড ভেতরে ভেতরে যেন ঘটে গেছে। দ্রুত হয়ে গেছে সময়ের লয়। আড়মোড়া ভাঙতে না-ভাঙতেই জোহরের নামাজের সময় চলে আসে। নামাজ শেষে খাওয়া–দাওয়া, এবার আসর নামাজের প্রস্তুতি। আজ আসরের নামাজের পর ৪টা ১০ মিনিটে রিয়াজুল জান্নায় যাওয়ার সময় নির্ধারণ করা আছে। নামাজ শেষে প্রায় আধ ঘণ্টা আগে সাঁইত্রিশ নম্বর গেটে চলে গেলাম আমি আর বাবা। বাবার কাছে মোবাইলে নুসুক অ্যাপ দিয়ে পবিত্র রিয়াজুল জান্নাহর পরিদর্শনের বিষয়টি একেবারে নতুন। বাবা এর আগেও কয়েকবার হজ ও ওমরাতে এসেছেন। যেকোনো বিষয় এলে বাবা পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে যান। মক্কা মদিনা নিয়ে তাঁর কত স্মৃতির কথা।

মদিনায় লেখক
মদিনায় লেখকছবি: লেখকের পাঠানো
রিয়াজুল জান্নাহতে ইবাদত, জিকির ও নামাজ আদায়ের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এটি মসজিদে নববির একেবারে মূল ও প্রাচীন অংশে অবস্থিত। রিয়াজুল জান্নাহর ভেতরে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক স্তম্ভ বা খুঁটি রয়েছে, যেগুলোকে রহমতের স্তম্ভ বলা হয়। এগুলো নবীজির (সা.) যুগের বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতি বহন করে। অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে রিয়াজুল জান্নাহতে প্রবেশ এবং নামাজ আদায়ের জন্য নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে অনুমতি নিতে হয়। ‘নুসুক’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের নিবন্ধন ছাড়া প্রবেশ করা যায় না। দর্শনার্থীর পাসপোর্ট নম্বর, ভিসা নম্বর, ই–মেইল আইডি দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। নারী ও পুরুষদের আলাদা সময়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দীর্ঘ লাইন কয়েক ধাপে এগিয়ে চলেছে। দুই জায়গায় অ্যাপ স্ক্যান করে ৩৯ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করিয়ে বসতে দিল। এখানেও কয়েক ধাপ ভাগ করা আছে। আমাদের ডাক পড়ল। এ দরজায় গেছেন না–জানি কত মহাপুরুষ, কত রহস্যের রাস্তার আশ্চর্য প্রান্ত ওই দরজা—ওই রাস্তায় যাঁরা বেরিয়েছেন তাঁরাই ধন্য। এখানে ক্লান্তি নেই। আসতে আসতে শেষের দিকে অবসন্ন লাগছিল, কিন্তু যে মুহূর্তে রিয়াজুল জান্নায় ঢুকেছি, সেই মুহূর্তে গায়ে লেগেছে শান্তির হাওয়া, প্রশান্তির ঢেউ হয়ে উঠেছে আমাদের শরীর। আকাশে উড়তে উড়তে হঠাৎ পাখি দিক বদল করে, সেই তীক্ষ্ণ বাঁকা রেখায় আমি। এ কোথায় এলাম? এত আলো, এত ভিড়ের মধ্যে নিবিড় নিঃশব্দ, এত শান্তি, আর এমন স্বচ্ছ উজ্জ্বল নীরবতা—বিশ্বাস হয় না যেন। এখানে যেন সৃষ্টির কাজ এখনো শেষ হয়নি!

আরও পড়ুন
চীন দেশে বাউল বেশে: সাংহাই পর্ব
২৪ নভেম্বর ২০২৫
চীন দেশে বাউল বেশে: সাংহাই পর্ব
রিয়াজুল জান্নাহতে সময় বরাদ্দ থাকে কুড়ি মিনিট, এর মধ্যে নামাজ দোয়া পড়ে শেষ করতে হয়। এ সময়ের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবীরা দর্শনার্থীদের বের করে দেন। এরপর নবীজির রওজা মোবারকের সামনে গিয়ে ৪০ নম্বর গেট দিয়ে বের হতে হয়। রিয়াজুল জান্নাহতে ঢুকে আমি আর বাবা পেছনের সরিতে বসে নামাজ পড়ছিলাম। কখন যে কুড়ি মিনিট পার হলো টের পেলাম না। আমাদের সঙ্গে যে দলটি এসেছিল তাদের ইতিমধ্যে বের করে দেওয়া হয়েছে, আরও একটি নতুন দল এল, তারাও নামাজ পড়ে বিদায় নিল। আমি আর বাবা রয়ে গেলাম প্রায় এক ঘণ্টা। এরপর বের হয়ে প্রবেশ করলাম এক নম্বর গেট দিয়ে নবীজির রওজা মোবারকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিগণকে সালাম জানিয়ে জিয়ারত শেষে বের হলাম চল্লিশ নম্বর দরজা দিয়ে।

বাবা আর আম্মাকে একসঙ্গে রেখে আমি আর রুনা মসজিদ থেকে বের হলাম কিছু খাবার কিনতে। আজ বের হলাম ৩৬৫ নম্বর গেট দিয়ে, যে গেট দিয়ে আমরা আসা–যাওয়া করি। কিছুদূর হাঁটার পর বেশ কিছু শপিং মল। একটি শপিং মলে ঢুকে ঘোরাঘুরি করছি, অনেক খেজুরের দোকান এখানে। বাংলাদেশি একটি ছেলে জোর করে দোকানে ঢুকাল। ওর অবস্থাটা এমন, কিনতে হবে না। আপনারা বিভিন্ন রকম খেজুর খেয়ে দেখুন, খেজুর সম্পর্কে জানুন। চট্টগ্রামের ছেলে। কথায় কথায় চেনা–পরিচয় হয়ে গেল। আমরা বিভিন্ন রকম খেজুর খাওয়ার জন্য কিনলাম। কিছু খেয়ে দেখলাম, বেশ সুস্বাদু। দেশি ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম—দোকানটি তার নাকি, কতদিন ধরে আছে মদিনায়, দেশে শেষ কখন গেছে। উত্তর এল—সে এখানে চাকরি করে, দুই বছর আগে দেশে গেছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, রিনিউ করতে অনেক টাকা লাগবে। জেগাড় হয়নি, তাই চেষ্টায় আছে। মল থেকে বের হয়ে একটি শর্মার দোকান পাওয়া গেল। আরবের শর্মা চেখে দেখতে হবে। তাও এক বাংলাদেশি দোকান চালাচ্ছেন, বাড়ি ফেনী। শর্মা নিয়ে মসজিদে রওনা হলাম। মা–বাবার কাছে পৌঁছতেই তাঁরা উল্টো নাশতা বের করে দিলেন। কারা যেন মুসল্লিদের নাশতা দিয়ে গেছে। মা আর বাবা আমাদের জন্য তুলে রেখেছেন। আমাদের কাফেলার হাসিনা খালা, তিন বোন, মামুন সাহেবের স্ত্রী, জয়নাল সাহেব সবাই একত্রে আছেন। সবাই ভাগ করে শর্মা খেলাম। শর্মার স্বাদে আমাদের দেশেরটাই জিতল। এশার নামাজের পর আম্মা আর রুনা রিয়াজুল জান্নাহতে গেল। চলবে...


বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।

  • গোপনীয়তার নীতি
  • শর্তাবলি
  • মন্তব্য প্রকাশের নীতিমালা
  • বিজ্ঞাপন
  • যোগাযোগ
  • ছুটির তালিকা
  • দিবস

সম্পাদক ও প্রকাশক: শামীম রনি

  • ফোন : 01700000000
  • ফ্যাক্স : 01700000000
  • ই-মেইল: info@newscellbd.com
  • বিজ্ঞাপন বিভাগ: ad@newscellbd.com

logo

সোশ্যাল মিডিয়া

logologologologologo
logo

নিউজলেটার

logo

মোবাইল অ্যাপস

অ্যান্ড্রয়েড

আইফোন

স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।