
খাবার শুধু আমাদের শরীরের জ্বালানি নয়, রোগ প্রতিরোধেরও অন্যতম হাতিয়ার। শীতকালে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ে। এসব রোগ প্রতিরোধ করতে শীতকালীন সবজি ও কিছু খাবার সাহায্য করতে পারে।
টমেটো ভিটামিন এ, সি, কে, খনিজ, ফাইবার ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। এসব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। চোখের সুরক্ষা প্রদান করে। টমেটোর ভিটামিন সি চমৎকার অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কোলাজেন উৎপাদনের মাধ্যমেও ত্বকের সুরক্ষা দেয়।
ব্রকলি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সব ধরনের ভিটামিন ও খনিজ মেটাবলিক ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করে। সালফোরামেন একটি সালফারসমৃদ্ধ শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা শরীরের ডিটক্সিফাইং সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এ ছাড়া সালফোরামেনের কারণে ব্রকলি অ্যান্টি–ইনফ্লামেটরি গুণসমৃদ্ধ, যা শরীরের সব ধরনের প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

শীতকালীন ফল জলপাই, পেয়ারা, বরই ও কমলা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টে ভরপুর। রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, ফ্লু, হাঁপানি, কোলন ক্যানসার ও বাতের ব্যথা সারাতে এগুলো বেশ উপকারী। এসব ফলে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি শরীরকে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি জোগায়। কমলার বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ইমিউনিটি ও হজমশক্তি বাড়ায়, সর্দি-কাশি সারায়, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তাই জ্বর ও ফ্লুর সময় কমলা খাওয়া ভালো। জলপাই ওমেগা ৩ ফ্যাট–সমৃদ্ধ হওয়ায় হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সাহায্য করে।
সামুদ্রিক খাবার, মাংস, কুসুমসহ ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম, শিমের বীজ জিংকের খুব ভালো উৎস। পেশিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতে জিংকের জুড়ি মেলা ভার। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় জিংকসমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। জিংকের পাশাপাশি এসব খাবারে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, সেলেনিয়াম ও আয়োডিন পাওয়া যায়, যা আপনার থাইরয়েড গ্রন্থি ও হৃদ্যন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

শীতে চিকেন ভেজিটেবল স্যুপ হতে পারে স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। স্যুপে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং ঠান্ডা লাগা বা ফ্লুর লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে। শক্তি জোগায় ও শরীর উষ্ণ রাখে।
প্রোবায়োটিক–সমৃদ্ধ খাবার যেমন টক দই, মিসো, কেফির, সাউরক্রাউট কিমচি, পনির ও ভিনেগার ছাড়া আচার নিয়মিত খেলে পরিপাকতন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ে। খাবার থেকে সব পুষ্টির শোষণপ্রক্রিয়া ও হজমক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও প্রতিদিন একটু ব্যায়াম করা দরকার। ওজন অনুযায়ী পানি পান করতে হবে। শীতকালে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ২টার মধ্যে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রোদ লাগাতে হবে।
মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

মুখের ত্বকের যত্নে নানা উপকরণ ব্যবহার করে থাকি আমরা। মুখের মসৃণ, কোমল ত্বকের জন্য সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত অনেক উপকরণই কাজে আসে। তবে ভুল জিনিস প্রয়োগ করাটা বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এমন পাঁচটি জিনিস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
স্টেরয়েড একধরনের ওষুধ। নির্দিষ্ট রোগের ক্ষেত্রেই তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে ত্বক লালচে হয়ে গেলে, ফুলে গেলে কিংবা চুলকানি হলে কেউ কেউ ওষুধের দোকান থেকে এ ধরনের ক্রিম বা মলম আনিয়ে ব্যবহার করেন। এ চর্চাটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সঠিক নিয়ম না মেনে স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হলে ধীরে ধীরে ত্বক পাতলা হয়ে যায়। ব্রণও দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া ত্বকে এমন কিছু সমস্যাও হতে পারে, স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হলে যা বাড়ে। তাই এ ধরনের ক্রিম কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
মুখের জন্য খুব গরম কিংবা খুব ঠান্ডা পানি দুটিই ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গরম পানি প্রয়োগ করা হলে মুখের ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায়। আর এই আর্দ্রতার অভাব পূরণ করতে মুখের ত্বকের গ্রন্থিগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তেল নিঃসরণ করতে থাকে। ফলে দেখা দেয় ব্রণ।
শরীরের ত্বকের জন্য তৈরি করা লোশন মুখে না লাগানোই ভালো। এসব লোশন অনেকটা ভারী হয়। মুখের ত্বকে এ ধরনের লোশন প্রয়োগ করা হলে তা মুখের ত্বকের স্বাভাবিক ছিদ্রগুলোকে আটকে দিতে পারে। তা ছাড়া সুগন্ধি লোশনে থাকা কোনো উপাদানের কারণে মুখের ত্বকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। ত্বক চুলকাতে পারে, লাল হয়ে যেতে পারে। ফুলেও যেতে পারে।
নেইল পলিশ রিমুভারে অ্যাসিটোনের মতো কড়া রাসায়নিক থাকে। তাই এটি আপনার ত্বকের জন্য খুব ক্ষতিকর। মেকআপ তোলার জন্য নিয়ম অনুযায়ী মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করুন।
মুখের ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার করতে সাদামাটা আঠার ব্যবহার আপনি দেখে থাকতে পারেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু আঠা আপনার ত্বক পরিষ্কার করে দেবে না। বরং আপনার ত্বকের ক্ষতি হবে এই জিনিসটির কারণে। ছিঁড়ে যেতে পারে মুখের ত্বকের রক্তনালিও। এমনকি আঠা তোলার সময় মুখের ত্বকের কোনো স্তরও উঠে আসতে পারে সঙ্গে।
সূত্র: ওয়েবএমডি

পেশাজীবীদের যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে বেশ জনপ্রিয় লিংকডইন। এটি পেশাদার নেটওয়ার্কিং ও ক্যারিয়ার গঠনের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মের মধ্যে একটি। সঠিক কৌশল অনুসরণ করে লিংকডইন থেকে বিভিন্ন চাকরির তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বুশরা হুমায়রা জানাচ্ছেন লিংকডইন ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার উপায়।

লিংকডইন প্রোফাইল আপনার ‘ডিজিটাল সিভি’। নিয়োগকারীরা কোনো প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের আগে তাঁর প্রোফাইল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। একটি পরিষ্কার ও হাসিখুশি প্রোফাইল ছবি রাখুন। আপনার কাজের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক একটি ব্যানার ব্যবহার করুন। লিংকডইনের হেডলাইনে শুধু আপনার বর্তমান পদবি না লিখে আপনি কী কী বিষয়ে দক্ষ (যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং, পাবলিক স্পিকিং), তা লিখুন। সামারি বা অ্যাবাউট অংশে আপনার অভিজ্ঞতা ও অর্জনের একটি সংক্ষিপ্ত গল্প তুলে ধরুন। আপনার কাজ–সম্পর্কিত ছয়-সাতটি স্কিল যোগ করুন।
লিংকডইনের জব ট্যাবে গিয়ে আপনি ‘লোকেশন’ (স্থান), ‘স্যালারি’ (বেতন) ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফিল্টার ব্যবহার করে চাকরি খুঁজতে পারেন। পছন্দের চাকরির পদের জন্য জব অ্যালার্ট চালু রাখুন। এতে নতুন কোনো সার্কুলার আসার সঙ্গে সঙ্গে আপনি নোটিফিকেশন পাবেন।
সরাসরি আবেদন করার চেয়ে নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনি যে কোম্পানিতে কাজ করতে চান, সেখানকার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে লিংকডইনে যুক্ত হতে পারেন। লিংকডইনে কানেকশন রিকোয়েস্ট পাঠানোর সময় একটি ছোট বার্তা পাঠাতে পারেন। এতে অনেক সময় জরুরি ভিত্তিকে নিয়োগের সময় যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।
নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য নিয়মিত আপনার কাজ বা ইন্ডাস্ট্রি–সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করুন। অন্যের পোস্টে গঠনমূলক মন্তব্য করুন। আপনি যত বেশি সক্রিয় থাকবেন, লিংকডইনের অ্যালগরিদম আপনার প্রোফাইলটি নিয়োগকারীদের সামনে তত বেশি প্রদর্শন করবে।
শুধু চাকরির জন্য লিংকডইনে চোখ রাখবেন না। পেশাজীবীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপসহ বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন লিংকডইনে। সে ক্ষেত্রে আপনি যে পেশায় আছেন বা ভবিষ্যতে যে পেশায় যেতে আগ্রহী, সেই পেশার অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের লিংকডইনে খুঁজে যোগাযোগ করতে পারেন।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিরতিতে নির্দিষ্ট সময়ে কর্মী নিয়োগ করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিগত বছরের বিজ্ঞাপন, চাকরির তথ্য খুঁজে পেতে লিংকডইন ভালো একটি জায়গা। আপনি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের লিংকডইন প্রোফাইলে খোঁজ করলে পুরোনো চাকরির তথ্য পাবেন। আবার অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের অভিজ্ঞতা লিংকডইনে প্রকাশ করেন। সেখান থেকেই বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন।
আপনি লিংকডইনের জবস হোমপেজ থেকে সহজেই চাকরি খুঁজতে পারেন। ফিল্টার, কি–ওয়ার্ড ও অ্যাডভান্সড সার্চ ব্যবহার করে আপনার জন্য কী কী সুযোগ আছে, তা বের করতে পারেন। লিংকডইনে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি চাকরির বিজ্ঞাপন পোস্ট করে। এসব চাকরির জন্য আবেদন করার সময় জীবনবৃত্তান্ত আপলোড করতে হয়। আপনার বিভিন্ন কাজের বিবরণ দিয়ে চার রকমের জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে রাখুন। একটি স্প্রেডশিটে আপনি যেসব চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, সেসবের তালিকা করে রাখতে পারেন।
আজকাল লিংকডইনে চাকরির আবেদনের সময় ‘ইজি অ্যাপ্লাই’ অপশন দেখতে পাবেন। শুধু লিংকডইন প্রোফাইলের মাধ্যমে এসব চাকরিতে আবেদন করা যায়। বাংলাদেশের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থাসহ অনেক প্রতিষ্ঠানই শুধু লিংকডইন প্রোফাইলের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করে।

শুধু চিকিৎসক নন, সুলেখক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছিলেন অধ্যাপক ডা.শুভাগত চৌধুরী।প্রথম আলোর এই নিয়মিত লেখক গত বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুর বর্ষপূর্তির আগে তাঁকে স্মরণ করেছেন তাঁর মেয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসলের পিএইচডি গবেষকসুস্মিতা চৌধুরী

জানুয়ারি মাস, স্মৃতির বুদ্বুদে ভাসছি। ১১ জানুয়ারি বাবার জন্মদিন; আর তার তিন দিন পরই তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। মনে হু হু করা বিলাপ—কেন তুমি নেই বাবা? কথা ছিল এ বছর হইচই করে তোমার ৮০তম জন্মদিন উদ্যাপন করব; কিন্তু বয়সের এই ‘ম্যাজিক স্কোর’ তোমার স্পর্শ করা হলো না; কিন্তু মন যখন চিরসবুজ, বয়স তখন সংখ্যামাত্র। জীবনের জয়গান গেয়ে আমার বাবা অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী উল্লাসে বেঁচেছেন। বুকে আশা আর চোখে স্বপ্ন নিয়ে আজীবন নিভৃতে আলো হাতে হেঁটে গেছেন। জগতের সব সুন্দরের মধে৵ তাই বাবাকে খুঁজি।
পাখির চোখে যদি আমার বাবার জীবনকে দেখি, তাঁর জীবন যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘সার্ভিস ওয়াজ জয়’! নিবেদনেই আনন্দ খুঁজেছেন। কখনো এই নিবেদনের অর্ঘ্য ছিল রোগীদের প্রতি চিকিৎসক হয়ে। কখনো শিক্ষক হয়ে সেই নিবেদন ছিল ছাত্রদের প্রতি—বন্ধুর পথে হাতটা ধরে পথ দেখিয়ে। কখনো সেবায় ব্রতী হয়েছেন কলম হাতে। লেখনীতে হয়তো বাংলার কোনো প্রান্তিক জনপদের অজানা কিশোরের বিজ্ঞানী মনকে উসকে দিয়েছেন। পাঠকের হৃদয় জয় করেছেন চিকিৎসাশাস্ত্র ও সাহিত্যের মধুর মিলন ঘটিয়ে। প্রতিটি ভূমিকায় ছিলেন অনন্য। কেননা, সেবাতেই ছিল তাঁর আনন্দ। ছিটকে পড়েননি বয়সের ভারে বরং বয়সী বটের ঝিলিমিলি পাতার মতোই উজ্জ্বল হয়েছেন। উজ্জ্বল হয়েছেন জীবনবোধে, প্রজ্ঞায়, নেতৃত্বে।
বাবার বয়স তখন ৭০ ছুঁয়েছে। এ বয়সে আমরা সাধারণত মনে মনে বলি, ‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু।’ আমরা নীড়ে ফিরতে চাই, ডানা গুটিয়ে বসতে চাই; কিন্তু বাবা শুরু করলেন তাঁর জীবনের নতুন ইনিংস। বারডেমের প্রজেক্ট ডিরেক্টর হয়ে পরিদর্শন করলেন দেশের ৬৪ জেলার মেডিকেল ল্যাবরেটরি। মানুষের অভাব–অভিযোগের গল্প শোনালেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বাবার ক্লান্তি ছিল না। ছিল অজানাকে জানার বাঁধভাঙা কৌতূহল। ছিল বাংলার মানুষের সুস্বাস্থ্যের পথকে সুগম করার স্বপ্ন। ডানা গুটিয়ে নেওয়ার সাধ ছিল না। তবে ঢাকায় সবুজ শান্তির নীড়ে ফেরার তাড়াও যে তাঁর ছিল।
আমরা তিন ভাইবোন তখন বিদেশ–বিভুঁইয়ে। মা অপেক্ষা করতেন সফর শেষে বাবা কখন বাড়ি ফিরবেন আর চায়ের কাপে গল্পের ঝাঁপি খুলে বসবেন। এ যেন তাঁদের যুগল জীবন ও রোমান্সের দ্বিতীয় ইনিংস। জ্যোৎস্নাশোভিত রুপালি সন্ধ্যায় ঝুলবারান্দায় মা–বাবার হাসি–গানে ভরা পুরোনো সেই সময় স্মৃতিপটে অক্ষয়। আমার বাবার কাছে মা শুধু তাঁর গৃহলক্ষ্মী আর সন্তানদের মা-ই ছিলেন না, ছিলেন পরম বন্ধু, প্রেয়সী।
জীবন রূপকথা নয়, হরদম আমরা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মুখোমুখি হই। বাবার ক্যানসারের ডায়াগনোসিস তেমনই এক বজ্রপাত ছিল। জীবনের সব হিসাবনিকাশ বদলে গেল। মা আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি বাবার পরম বন্ধু। নতুনরূপে বাবাকে আবিষ্কার করলাম, তিনি যেন মহাভারতের ভীষ্ম, যিনি শরশয্যায়ও স্থির, দৃঢ়। বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশেই তাঁর চিকিৎসা হবে। বিদেশে চিকিৎসার হাতছানি অনায়াসে দূরে ঠেললেন। তাতে বরাবরই তাঁর অনীহা। দেশকে বাবা ভালোবেসেছিলেন মায়ের মতো। তাই সে ভালোবাসা ছিল সরল ও সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের দক্ষতায়ও বাবার অগাধ আস্থা ছিল। বাবার প্রাণপ্রিয় ছাত্ররা তাঁর চিকিৎসা করলেন, সুস্থও হলেন। ছাত্র-শিক্ষকের নিবিড় এ বন্ধনের সাক্ষী ছিলাম আমি, চমকিত হয়েছিলাম। বুঝলাম, সমাজের জন্য, দেশের জন্য বাবার রেখে যাওয়া বড় উপহার তাঁর সুযোগ্য ছাত্ররা, যাদের চেতনার ছাঁচ তিনি গড়েছেন পরম যত্নে।
ক্যানসার যোদ্ধাদের সারথি হয়ে বাবার শেষ কটি বছর কেটেছে সচেতনতার মশাল হাতে ক্যানসার জয়ের মূলমন্ত্র ছড়িয়ে। এখানে থেমো না বইয়ে লিখেছেন ‘যখন মনের সাথে বোঝাপড়া হয়— সময় অল্প, কিন্তু বাঁচব আনন্দে, মানুষ তখন ক্যানসার জয় করে।’
আমার বাবা ক্যানসারজয়ী অদম্য লড়াকু। তিনি তাঁর ক্যানসার সহযোদ্ধাদেরই একজন, যাঁরা চিরকাল অপরাজিত।
আমাদের কাছে বাবা ছিলেন ‘লর্ড অব দ্য রিংস’-এর গ্যান্ডালফ, যাঁর ছিল জাদুকরি শক্তি। তাঁর প্রজ্ঞার বিচ্ছুরিত আলোয় আলোকিত হয়েছে আমাদের চলার পথ। আমার পিএইচডি গবেষণা নিয়ে বাবার ছিল দারুণ উত্তেজনা। বাবার শিশুতোষ জিজ্ঞাসু মন, তারার মতো জ্বলজ্বলে চোখ আর আমার গবেষণা যেন বিনিসুতায় গাঁথা মালা। মাঠপর্যায়ে গবেষণা করতে, কৃষকের কুশল জানতে, বাবার হাত ধরে গিয়েছিলাম পল্লিবাংলার আনাচকানাচে। মশগুল ছিলাম গল্পে। ঢাকায় ফিরতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। ছবির মতো ছিমছাম গ্রামগুলোর একটি ছবিও তোলা হয়নি! মজার ব্যাপার হলো, বহুদিন পর সেদিন বাবার ফটো অ্যালবাম ঘাঁটছিলাম। মুখোমুখি হলাম বিমুগ্ধ এক বিস্ময়ের, যার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। বাবা তাঁর ফটো অ্যালবামে রেখে গেছেন গ্রামবাংলার সেই ছবিগুলো। আমি ক্যামেরাবন্দী করতে ভুলে গিয়েছিলাম, বাবা ভোলেননি। এ যেন গোপন সিন্দুকে গুপ্তধনের খোঁজ পেলাম। এ গুপ্তধনের নাম ‘বাবা–মেয়ের বন্ধন’, মৃত্যুতেও যা অটুট।
বড় শৌখিন মানুষ ছিলেন বাবা। ঝরঝরে ভাতের মনমাতানো সৌরভ ভালোবাসতেন। জঙ্গলের ঝুম অন্ধকারে রোমাঞ্চ খুঁজতেন। ঝিঁঝি পোকার ডাকে কান পাততেন। আমৃত্যু জীবনের অর্থ খুঁজতেন আত্মনিবেদনে, কর্মে। তাই বাবাকে খুঁজে পাই সাহিত্যে, কবিতায়, গানে। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা বইয়েবলেছেন, ‘মৃত্যুর মানে হলো অন্তহীন বিশ্রাম, তাই তার আগে অবিরাম কাজ করে নেওয়াই শ্রেয়।’
চিরকালই তো কাজ করলে মহাসমারোহে বাবা। এখন তুমি বিশ্রাম করো। আর একদিন তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ আমায় কোরো, অপেক্ষায় থাকব।

কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা বয়স ৫০ পার হওয়ার পরই গা ছেড়ে দেন। ৩০ সেকেন্ড দৌড়ালেই তাঁদের মনে হয় শরীর ভেঙে পড়ছে। ছয়-সাতটার বেশি পুশআপ দেওয়াই তাঁদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। ‘বয়স হয়ে যাচ্ছে,’ ধরে নিয়ে বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই মেন নেন তাঁরা। কিন্তু কিছু মানুষ এটাকে মেনে নেন না। তাঁরা বুঝতে পারেন, এখন দরকার একটি ‘রিবুট পিরিয়ড’, শরীরকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া। নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া, ধৈর্য আর নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে শরীরের সক্ষমতা বদলাতে হবে।
একসময় সেই মানুষই কুপার টেস্টে ১২ মিনিটে ১ থেকে দেড় মাইলের বেশি দৌড়াতে পারেন, টানা ৬০টি পুশআপ দিতে পারেন, এমনকি এক পায়ে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট ভারসাম্যও ধরে রাখতে পারেন। ৫০ বছর বয়সেও ৩০ বছরের মতো ফিট থাকেন। এটা কীভাবে করা যায়, চলুন জেনে নিই।
এ জন্য প্রথমেই জৈবিক বয়স সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। জৈবিক বয়স হলো আপনার শরীর বাস্তবে কতটা সুস্থ ও কার্যকর অবস্থায় আছে, সেটির হিসাব। এটি আপনার জন্মসনদে লেখা কোনো বয়স নয়। বরং আপনার কোষ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও শারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থাগুলো কতটা ‘যুবক’ বা ‘বৃদ্ধ’—তার একটি সামগ্রিক পরিমাপ। একজন মানুষের বয়স কাগজে-কলমে ৫০ হতে পারে, কিন্তু তাঁর জৈবিক বয়স হতে পারে ৩৫। আবার কারও বয়স ৩০ হলেও শরীরের অবস্থা হতে পারে ৪৫ বছরের মতো।
ঘরে বসেই কীভাবে নিজের জৈবিক বয়স বুঝবেন
এটা জানার জন্য আপনাকে বিজ্ঞানী হতে হবে না। কয়েকটি সহজ পরীক্ষাই যথেষ্ট—
১. বিশ্রামকালীন হার্ট রেট
ঘুম থেকে উঠে বিছানা ছাড়ার আগে এক মিনিট পালস মেপে দেখুন। পালস যদি ৬০ বিপিএমের নিচে হয়, তাহলে হৃদ্যন্ত্র ভালো অবস্থায় আছে।
২. নমনীয়তা পরীক্ষা
মেঝেতে বসে দুই পা সোজা করে রাখুন। এবার ধীরে ধীরে সামনে ঝুঁকে পায়ের আঙুল ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। যদি সহজে আঙুল ছুঁতে পারেন, তাহলে বুঝবেন আপনার মেরুদণ্ড ও পেশি ভালো অবস্থায় আছে।
৩. ভারসাম্য পরীক্ষা
চোখ বন্ধ করে এক পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুন। যদি ৩০ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন, তাহলে আপনার ভারসাম্য খুব ভালো। ভালো ভারসাম্য মানে স্নায়ু, পেশি ও মস্তিষ্ক একসঙ্গে ঠিকভাবে কাজ করছে।
৪. শক্তি পরীক্ষা
টানা কতটি পুশআপ দিতে পারছেন, সেটি আপনার শরীরের শক্তির একটি সহজ মাপকাঠি। ৫০ বছরের বেশি বয়সে যদি ২৫ থেকে ৩০টি পুশআপ দিতে পারেন, তাহলে সেটিকে ভালো ফল ধরা হয়।

আপনার মানসিক বয়স বোঝার জন্য কিছু সহজ প্রক্রিয়া আছে। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আপনার মানসিক বয়স সম্ভবত আপনার প্রকৃত বয়সের চেয়ে অনেক কম।
১. অবিরাম শেখার আগ্রহ:আপনি নতুন কোনো বিষয় পুরোপুরি শিখেছেন? অজানা বিষয়গুলোতে কি আপনি উৎসাহের সঙ্গে প্রবেশ করেন? নতুন প্রযুক্তিতে কি দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন?
২. সমস্যা সমাধান:লজিক গেম, ধাঁধা উপভোগ করেন কি? জটিল সমস্যার সৃজনশীল সমাধান খুঁজে বের করতে পারেন কি? মানসিক চ্যালেঞ্জ কি আপনাকে উদ্দীপিত করে?
৩. মস্তিষ্কের নমনীয়তা:নতুন প্রমাণ বা তথ্য পেলে কি আপনি আপনার মতামত বদলাতে পারেন? দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনে কি সহজে মানিয়ে নিতে পারেন? বিভিন্ন পরিস্থিতিকে কি একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারেন?
যদি ওপরের সব প্রশ্নের উত্তর হয় ‘হ্যাঁ’, তবে আপনার মানসিক বয়স এখনো আপনার প্রকৃত বয়সের চেয়ে অনেক কম।
বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।
স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।