
চলতি বছর জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরান মাইকেল ক্যারিক। পুরস্কার হিসেবে স্থায়ী কোচ বানিয়ে তাঁর সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি করে ইউনাইটেড। কিন্তু চলতি মৌসুমে আবারও পুরোনো রোগেই পেয়ে বসেছে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটিকে।
মৌসুমে এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে হার ৩টি। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে ৪ ম্যাচেই হেরেছে দুটি, ড্র একটি। অন্য যে হারটি, সেটা কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে। গতকাল রাতের এই হারই সম্ভবত ইউনাইটেড সমর্থকদের কষ্ট দেবে সবচেয়ে বেশি। ঘরের মাঠে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ইউনাইটেড।
হারের ধরনটাও মর্মান্তিক। ১০ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হেরেছে ক্যারিকের দল। গত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে কোনো ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হারল ইউনাইটেড। ১৯৭৬ সালে এই সেপ্টেম্বরেই প্রথম বিভাগ লিগে টটেনহামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও হারতে হয়। সেই ম্যাচেও ইউনাইটেডের হারের ব্যবধান ছিল ৩-২।
প্রিমিয়ার লিগের দল ব্রাইটন অর্ধশতাব্দী আগের সেই তেতো স্মৃতিই ফিরিয়ে এনেছিল ওল্ড ট্রাফোর্ডে। ইউনাইটেডের অনেক বয়স্ক সমর্থকের কাছেও সেই হারের স্মৃতি অনেক পুরোনো। কারণ, ইউনাইটেডের সোনালি সময়ের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও তখন ওল্ড ট্রাফোর্ডে যোগ দেননি। ফার্গুসন তখন সেন্ট মিরেনের কোচ। আর বিবিসি লিখেছে, টটেনহামের সেই জয়ের সময় ইউনাইটেডের কিংবদন্তিতুল্য ক্লাস অব নাইন্টি টুর খেলোয়াড়েরা ডায়াপার পরতেন।

‘ম্যানচেস্টার ডার্বি–তে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি ইউনাইটেডের সমর্থকদের। তারপর ব্রাইটনের কাছে এমন হারে মেজাজ আর ধরে রাখতে পারেননি সমর্থকেরা। শেষ বাঁশি বাজার পর তাই গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনি শুনতে হয় ক্যারিকের দলকে। খেলোয়াড়েরা মাঠ প্রদক্ষিণের সময় বেশির ভাগ ইউনাইটেড সমর্থকই গ্যালারি ছেড়ে গিয়েছিলেন। থেকে যাওয়া সমর্থকেরা দুয়ো দেন।
হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে ইউনাইটেড কোচ ক্যারিক বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ভাগের পারফরম্যান্সের দায় আমিই নিচ্ছি। এর পুরো দায় আমার।’ প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে একটি গোল হজমের পর ৬৫ ও ৬৯ মিনিটে আরও দুটি গোল হজম করে ইউনাইটেড।

এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ফুটবল ইভেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে আজ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৮৮ ধাপ এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৬-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
এর আগে প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়াও শক্তি, র্যাঙ্কিং ও অভিজ্ঞতার বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়া পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলেছে। এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে নয়বার, জিতেছে তিনটি ব্রোঞ্জপদক।

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণের ধার বেড়েছে। বাংলাদেশও ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। ১৬ মিনিটে কিম মিনজির গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জং দাবিন।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধের তুলনায় আজ অবশ্য অনেক ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। গোল করতে না পারলেও প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার চেষ্টা ছিল দেখার মতো। প্রথমার্ধে চারটি সেভ করেন গোলকিপার রুপনা। দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি শট রুখে দেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। নিজেদের এই অনড় অবস্থান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চিঠি লিখে আইসিসিকে জানিয়ে দেওয়ার পর এবার দৃশ্যপটে হাজির পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের জিও টিভির এক খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করার আগ্রহ দেখিয়েছে পিসিবি।
ঘটনার সূত্রপাত উগ্রবাদীদের চাপের মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে। এর জের ধরে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের টানাপোড়েনটা ক্রিকেট ছাপিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে চলে গেছে। কেকেআর, আইপিএল বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলেনি। তবে এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বাংলাদেশও।
এরই মধ্যে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ গুজরাটের বরোদরায় বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করার কথা আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহর। তবে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হয়েছে কি না, তা এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত জানা যায়নি।
এরই মধ্যে পিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র পাকিস্তানের জিও নিউজকে বলেছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পাকিস্তানের মাঠগুলো ‘প্রস্তুত ও পুরোপুরি সজ্জিত’। শ্রীলঙ্কার ভেন্যু পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান এগিয়ে আসতে পারে। পিসিবি মনে করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বেশ সফলতার সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ ও নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব আয়োজন করে সবার আস্থা অর্জন করেছে।
পিসিবির দাবি, আইসিসি চাইলে তারা সহজেই বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পারবে। পাকিস্তানের সব ভেন্যুই প্রস্তুত আছে। পিসিবি এ ব্যাপারে আইসিসিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব না দিলেও বিসিবির ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার অবস্থানকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সমর্থন জানাচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে।
বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।
স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।