আপডেট :

আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন। একবার তিনি নবীজিকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। পরে যখন তাঁর শরীর কিছুটা ভারী হয়ে যায়, আরেকবার প্রতিযোগিতা হলে মহানবী (সা.) জিতে যান। তখন তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘এটা ছিল তোমার আগের জয়ের বদলা।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৭৮)
এই ছোট্ট ঘটনার মধ্যে কত বড় শিক্ষা লুকিয়ে আছে। নবুয়তের গুরুদায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরও মহানবী (সা.) স্ত্রীর সঙ্গে খুনসুটি করার সময় বের করতেন। তার মানে সংসার শুধু দায়িত্ব আর কর্তব্য নয়, সংসার আনন্দময় হবে।
সুন্দর দাম্পত্যের জন্য করণীয়
১. পরিবারের সঙ্গে উত্তম আচরণ: প্রকৃত ভালো মানুষের পরিচয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সবচেয়ে উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সবচেয়ে উত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)
মহানবী (সা.) মানুষের ভালো হওয়ার মাপকাঠি ঠিক করে দিয়েছেন এই হাদিসে। বাইরে কেউ যত ভালো ব্যবহার করুক, ঘরে সেই আচরণ না থাকলে সেটা প্রকৃত ভালো মানুষের পরিচয় নয়।
২. পস্পরের ত্রুটি মেনে নেওয়া: সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার আসল চাবিকাঠি। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ যেন মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে। তার মধ্যে কোনো স্বভাব অপছন্দ হলে অন্য কোনো স্বভাব নিশ্চয়ই পছন্দ হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৬৯)
কোনো মানুষই নিখুঁত নয়, জীবনসঙ্গীও নন। একটা খারাপ দিক দেখে পুরো মানুষটাকে বিচার করা ঠিক নয়। যে সংসারে এই ভারসাম্য থাকে, সেই সংসারেই স্থিরতা থাকে।
৩. সংসারের কাজে হাত লাগানো: এটা নবীজির সুন্নত। আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মহানবী (সা.) ঘরে কী করতেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি নিজের পরিবারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য বের হতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৭৬)
নবীজি (সা.) নিজে ঘরের কাজে হাত লাগাতেন। সংসারের কাজ শুধু একজনের দায়িত্ব নয়, যিনি যতটুকু পারেন এগিয়ে আসাটাই সুন্নাহ।
৪. সদাচরণ বজায় রাখা: এটা আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ। আল্লাহ সুরা নিসায় বলেন, ‘আর তাদের সঙ্গে সদাচরণে জীবন যাপন করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৯)
‘মারুফ’ মানে যা সমাজে ও ইসলামে ভালো বলে স্বীকৃত। মন খারাপ থাকলেও, কষ্ট থাকলেও, ভালো ব্যবহার বজায় রাখতে হবে। এটা ঐচ্ছিক নয়। বাধ্যতামূলক।
৫. একে অপরের রক্ষাকবচ হওয়া: গোপনীয়তা ও দুর্বলতা আগলে রাখা। আল্লাহ সুরা বাকারায় বলেন, ‘তারা তোমাদের পোশাক, আর তোমরা তাদের পোশাক।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭)
পোশাক শরীর ঢেকে রাখে, রক্ষা করে, সুন্দর করে তোলে। স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের জন্য তেমনই। একে অপরের দোষ-ত্রুটি বাইরে প্রকাশ না করা, একে অপরকে আগলে রাখা, এটাই এই আয়াতের শিক্ষা।
বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।
স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।