আপডেট :

ঢাকার সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) ঘিরে রোগী ও স্বজনদের আবাসন এবং ফিজিওথেরাপি সেবা গ্রহণ নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের চিত্র উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা অনেক রোগীকে দীর্ঘদিন সাভারে থাকতে হয়। এ সময় নিরাপদ বাসস্থান ও নির্ভরযোগ্য থেরাপি কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
রোগীর চাপ, বাড়ছে বেসরকারি থেরাপি কেন্দ্র:
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাভারের সিআরপিতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোগী আসেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিআরপির আশপাশে প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে ৫০ থেকে ৭০টি বেসরকারি ফিজিওথেরাপি কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
সিআরপির একজন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু বেসরকারি কেন্দ্র সিআরপির নাম ব্যবহার করে রোগীদের বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের থেরাপি প্রদানকারীদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে এমন এক রোগীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, যিনি প্রায় দুই মাস থেরাপি নেওয়ার পর জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি সিআরপির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
তবে সব বেসরকারি কেন্দ্রকে একইভাবে মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, অনুমোদন ও সেবাদানকারীদের যোগ্যতা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাসাভাড়া নিয়েও উদ্বেগ:
চিকিৎসার জন্য দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী ও স্বজনদের কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সাভারে থাকতে হতে পারে। এতে বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ তাঁদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।
প্রতিবেদনটিতে একজন রোগীর স্বজনের কাছাকাছি এলাকায় এক কক্ষের বাসায় মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সিআরপি এলাকার কিছু ভাড়া বাসায় ভাড়া নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট বাড়ি, ভাড়ার পরিমাণ ও কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়নি—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই কোনো বাড়ির মালিককে দায়ী করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
রোগী ও স্বজনদের করণীয়:
বাসা ভাড়া নেওয়ার আগে লিখিত চুক্তি, অগ্রিমের শর্ত, অন্যান্য খরচ ও টাকা পরিশোধের রসিদ নিশ্চিত করা উচিত।
থেরাপি নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি সিআরপির অংশ কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি থেরাপিস্টের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিবন্ধন সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং সেবার রসিদ সংগ্রহ করা জরুরি।
সিআরপির আশপাশের বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর অনুমোদন, সেবাদানকারীদের যোগ্যতা এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
সিআরপি সাভারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান। চিকিৎসার আশায় আসা রোগী ও স্বজনেরা যেন ভুল তথ্য, অনিরাপদ আবাসন কিংবা অনুপযুক্ত সেবার ঝুঁকিতে না পড়েন, সে জন্য তথ্য যাচাই ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
তথ্যসূত্র: ১. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড — Inside the parallel physio economy growing around Savar’s CRP — ২২ জানুয়ারি ২০২৬।
✍️প্রতিবেদক: পি.এইচ.এম. সাখাওয়াত (সাভার, ঢাকা)
বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।
স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।