আপডেট :

"২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে ৮২টি নৌকার ছবি অপরিবর্তিত থাকছে, ২০২৮ সালের বইয়ে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা"
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন ছবির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিতর্কের পর ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে থাকা ৮২টি নৌকার ছবি চলতি পর্যায়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে না। বইগুলোর মুদ্রণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ের ছবির ব্যবহার, পাঠের সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য এবং শিশুদের শেখার ক্ষেত্রে এসব ছবির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি পরিবর্তনের উদ্যোগ
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এনসিটিবি।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, বইটির মোট ৩৮ লাখ কপির মধ্যে ১৮ লাখ ইতোমধ্যে বিদ্যালয় পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ২০ লাখ কপির মুদ্রণকাজ চলছিল। সরবরাহ করা বই থেকে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা পরিবর্তন করে সংশোধিত পৃষ্ঠা সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তবে সংশোধনের পর ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে কোন ছবি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে ৮২টি নৌকার ছবি
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি পাঠে নৌকার ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর সরাসরি সম্পর্ক কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথম শ্রেণির বইয়ে ‘আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হয়’ বাক্যের সঙ্গে নৌকার ছবি রয়েছে। একইভাবে ‘ভোর হলো’ কবিতা ও ‘আমাদের দেশ’ বিষয়ক আলোচনাতেও এ ধরনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমাদের গ্রাম’, ‘আজিকার শিশু’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তালগাছ’ কবিতার মতো পাঠেও নৌকার ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
এনসিটিবির বক্তব্য অনুযায়ী, নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতেই এসব ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ছবির সংখ্যা এবং পাঠের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
মুদ্রণকাজ শেষ পর্যায়ে, আপাতত পরিবর্তন নয়
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকের বাংলা বইয়ে থাকা নৌকার ছবিগুলো চলতি পর্যায়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে না। বইগুলোর মুদ্রণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে পাঠ্যবইয়ের ছবি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পর মুদ্রণ কার্যক্রমের সংশোধন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দারের বক্তব্য অনুযায়ী, বইয়ের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্পীরা ছবি আঁকেন। মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তন না হলে ছবি পরিবর্তন করা কঠিন।
২০২৮ সালের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সময় পাঠের বিষয়বস্তু, ছবির প্রাসঙ্গিকতা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার উপযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ছবি পাঠ বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই ছবিগুলো কেবল বইয়ের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, বরং সংশ্লিষ্ট পাঠের ধারণা স্পষ্ট করতে কতটা সহায়ক—সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা ও শিক্ষাক্রমের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যবইয়ের ছবি নির্বাচন করা গেলে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে বিতর্ক এড়াতে বই ছাপানোর আগে পাঠ্যবস্তু ও চিত্রের যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র:
১. দৈনিক মানবকণ্ঠ- ২৫ অক্টোবর ২০২৬
২. গণকণ্ঠ- ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিবেদক: পি.এইচ.এম. সাখাওয়াত
সাভার, ঢাকা।
বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।
স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।