আপডেট :

ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার। নিজের পেশাগত বিবরণীতে তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর কথা লিখেছেন। আরও লিখেছেন, উড়োজাহাজ চালাতে গিয়ে তিনি সব সময় ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দিয়ে এসেছেন।
গতকাল বুধবার পেশাগত জীবনের সেই ‘নিরাপত্তাবোধের’ সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিতে হয়েছে স্মিথকে। মাঝ আকাশে থাকা একটি উড়োজাহাজের ককপিটে ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। তাঁরই একজন সহকারী পাইলট ককপিটে স্মিথকে ছুরিকাঘাত করেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীবোঝাই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করানো।
উড়োজাহাজটি ফ্লাইদুবাইয়ের। সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবে যাচ্ছিল। যাত্রী ছিলেন ১৭৪ জন। উড়োজাহাজটি ওমানের আকাশসীমায় ছিল। হামলার পর তড়িঘড়ি করে উড়োজাহাজটির মুখ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক শহরের বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
ককপিটে রক্তাক্ত হওয়ার পরও উড়োজাহাজটি এবং ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করায় রীতিমতো ‘নায়ক’ বনেছেন স্মিথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই পাইলটের ভূয়সী প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তাঁকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুজনই।
নেতানিয়াহু তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি (স্মিথ) লড়াই করেছেন। হামলাকারীকে প্রতিহত করেছেন। ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছেন। এতে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করতে পেরেছেন। ফলে মাঝ আকাশে বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। ’
এ ঘটনার পর ক্যাপ্টেন স্মিথ সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে, স্মিথের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা তাঁর (স্মিথের) পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করা হবে। তাঁর সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
এক্স পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘ভয়াবহ বিপদের মুখে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি (স্মিথ) অসীম সাহস ও অন্যদের জীবন রক্ষায় দৃঢ় সংকল্প দেখিয়েছেন। তাঁর সাহস শত শত মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। বড় একটি বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করেছে।’
ভারতের মুম্বাইয়ের ঘাটকপার ইস্ট এলাকায় থাকেন স্মিথের পরিবার। টেলিফোনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরাগ শাহ জানান, ঘটনা শুনে ক্যাপ্টেন স্মিথের মা–বাবা আজ ভোরেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
বাংলাদেশ ও বিশ্বের সকল খবর, ব্রেকিং নিউজ, লাইভ নিউজ, রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা, বিনোদনসহ সকল সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে পড়তে ক্লিক করুন নিউজসেলবিডি ডট কম।
স্বত্ব © ২০২৫-২০২৬ নিউজ সেল
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।